স্পোর্টস ডেস্ক : অনেকটা আচমকাই বলে ফেললেন ‘বিদায়’। বিশ্বকাপের বাকি মাস দুয়েক এর আগে দারুন ফর্মে থাকা ম্যাককালামের বিদায়কে অনেকে অনেক ভাবেই দেখেন। যে যেভাবেই দেখুক না কেন ম্যাককালাম এখন সাবেক কিউই ক্রিকেটার। টি২০ ক্রিকেট তাকে মিস করবে, তার অভাব কতটা পূরণ হবে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। তবে তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবনে যা দেখিয়েছেন তা শুধু কিউইরা নয় বিশ্ববাসীও স্মরণ করবে। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আধুনিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের পথদ্রষ্টা। ক্রিকেটের মারকাটারী এই ভার্সনে তার তুলনা নাই। সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও তিনি। সাবেকদের খাতায় নাম লিখিয়ে ব্রেন্ডন এখন দর্শক।
দেশের ক্রিকেট থেকে বিদায় বললেও দেশের প্রতি ভালবাসার বিদায় বলে দেননি। উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সতীর্থদের জানিয়েছেন শুভ কামনা।
ছোটবেলায় যখন জিজ্ঞেস করা হত বড় হয়ে কী হতে চাও, আমরা সবাই বলতাম এক দিন দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলব। আমি আর নেই, কিন্তু তোমরা আছো। আরও একটা সুযোগ পাচ্ছ দেশের ক্রিকেটকে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কথা না ভেবে নিজেদের হান্ড্রেড পার্সেন্ট দাও। আপ্রাণ লড়ে যাও। বাকি যা হবে, দেখা যাবে।
বিশ্বে নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ করতে গেলে সবার আগে মনের ভয়, হতাশা তাড়াতে হবে। কাউকে, কোনও টিমকে ভয় পেলে চলবে না। হতাশায় ভোগা চলবে না। নেগেটিভ যা কিছু আছে, বাদ দিতে হবে। আমি যেমন মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছিলাম। কেন জানো? কারণ লোকে বলে মানুষ মদ্যপান করে হতাশায়। আমি ক্রিকেটার। দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। হতাশা আমার মধ্যে ঢুকবে কেন?
উপরের লাইনগুলো যার, তিনি ব্ল্যাক ক্যাপস সমাজে তো বটেই, ভারতীয় ভূখণ্ডেরও বড় চেনা। ছোট করে ছাঁটা চুল, কোঁচকানো চোখ, হাতের ট্যাটু, সর্বক্ষণ চিবিয়ে চলা চুইংগাম— গোটা ক্রিকেটবিশ্বে তাঁর এমন এক ভয়াল ভাবমূর্তি তৈরি করে রেখেছিল যে, বোলাররা দেখলে কাঁপত। রাতে ঘুম হত না।
টিমের উপর প্রভাবে প্রয়াত মার্টিন ক্রো-কে যদি এক নম্বরের সিংহাসন ছেড়ে দিতে হয়, তা হলে অবিসংবাদী দু’নম্বর জায়গাটা নিয়ে চলে যাবেন ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। গত বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে টিমকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পর যেটা আরও বেড়েছে। শোনা গেল, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানের আগে সদ্যপ্রাক্তন সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করে উদ্দীপক বক্তৃতা দেওয়াই শুধু নয়, টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন নিয়মিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে উইলিয়ামসনকে করা প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা ভাগ্যবান ম্যাকালামকে অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন বলে। ‘ওর সঙ্গে এখনও আমরা যোগাযোগ রাখি। ওর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা ভাবলে এখনও অসম্ভব ভাল লাগে।’ বলে ফের জুড়ে দিলেন, ‘অনেক কিছু শিখেছি ওর থেকে। আর ও তো শুধু আমাদের টিমকে পাল্টে দেয়নি। গোটা দুনিয়া জুড়ে নিউজিল্যান্ড টিম সম্পর্কে ধারণাই পাল্টে দিয়েছিল। আপনারা বলছেন, ওকে প্লেয়ার বা অধিনায়ক হিসেবে আমরা আর পাব না। ঠিকই। এই দু’টো জায়গাতেই ও অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের এ বার নতুন একটা স্টাইল খুঁজে বার করতে হবে। ব্রেন্ডনকে তো আর চাইলেও পাওয়া যাবে না। আমরা এখনও বিশ্বাস করি ওর মধ্যে অনেক ক্রিকেট বাকি ছিল।’
ব্রেন্ডন আচমকা ছাড়লেনই বা কেন? সাংবাদিক মহলের খবর, ব্রেন্ডনের পিঠ আর হাঁটুর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। গল্ফ খেলা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। আর আশ্চর্য লাগবে শুনলে, গল্ফের প্রতি নাকি বিগ ম্যাকের বরাবরের অদ্ভুত ভালবাসা। সংক্ষেপে, জীবন।
আসল কারণ যা-ই হোক, বাস্তব হল ব্রেন্ডন ম্যাকালাম টিমে আজ আর নেই। অবসর নিয়ে ফেলেছেন, টিমকেও আজ থেকে বিশ্বকাপে নামতে হবে তাকে ছাড়া। কিন্তু বাস্তব যে সব সময় সত্যি বলে, সেটাও বা কে বলল?
ব্রেন্ডন ম্যাকালাম আজ থেকে অবশ্যই নামবেন। গোটা টুর্নামেন্ট খেলবেন। শুধু অদৃশ্য ভাবে, নন প্লেয়িং ক্যাপ্টেনের জার্সিতে!

