খুলনা প্রতিনিধি : মজুরি বৃদ্ধি, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের জন্য খুলনার পৃথক দুটি স্থানে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ করেছেন খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলের শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, ও স্টার জুটমিলের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে লাঠি মিছিল করে খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড়ে রাজপথে ও রেল লাইনে অবস্থান নেয়। এ সময় খুলনা-যশোর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া রেল লাইনের ওপরে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে ও রেললাইনে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে।
অবরোধের সময় নতুন রাস্তার মোড়ে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল সিবিএ-নন-সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা দেন, ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ সভাপতি দীন ইসলাম, স্টার জুটমিলের সিবিএ সভাপতি বেল্লাল হোসেন, প্লাটিনাম জুটমিলের সিবিএ সভাপতি কাওছার আলী মৃধা, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, হুমায়ুন কবির।
এ সময় শ্রমিক নেতারা বলেন, ৬টি পণ্যের মোড়কীকরণে পাটজাত দ্রব্য বাধ্যতামূলক করলেও সরকারি মিলগুলোতে উৎপাদিত এক কোটিরও বেশি বস্তা অবিক্রিত থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের দুই মাসের মজুরি বকেয়া পড়েছে। সরকার সঠিক সময়ে কাঁচাপাট কেনার জন্য বরাদ্দ না দেয়ায় অর্থের সঙ্কটে সরকারি পাটকলগুলোর উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এতে শ্রমিক-কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে, আটরা গিলাতলা শিল্পাঞ্চলের খুলনা-যশোর-ঢাকা মহাসড়কে আলীম ও ইস্টার্ন জুট মিলের শ্রমিকরা অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। সেখানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আফজাল হোসেন জানান, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকা পড়ে রাজশাহীগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস, চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী রকেট মেইল ট্রেন। অবরোধ তুলে নেয়া হলে ট্রেন দুটি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

