ঢাকাSaturday , 12 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সই জাল করে খোলা হয় অ্যাকাউন্ট, দাবি ব্যবসায়ীর

Link Copied!

rcbcনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরিতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকার কথা জানিয়েছেন ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো। এমনকি বৈদেশিক মুদ্রার যে হিসাব স্থানীয় একটি ব্যাংকে তার নামে রয়েছে সেটিও জাল সই দিয়ে খোলা হয়েছে বলে দাবি এ ব্যবসায়ীর। রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখা ম্যানেজার ওই সই জাল করেছেন বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্টের ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় ফিলিপাইনে। ফেব্রুয়ারির ৫ থেকে ৯ তারিখের মধ্যে দেশটির রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিটের ব্রাঞ্চের একটি অ্যাকাউন্টে।
ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ইনকোয়েরারের এক প্রতিবেদনের এ তথ্য জানানো হয়। টাকা চুরিতে সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো’র আইনজীবী রেমন এসগিরার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ প্রতিবেদন তৈরী করে পত্রিকাটি। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে উইলিয়াম গো’র আইনজীবী এ দাবি করেন। নিরাপত্তার কারণে গো’কে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত করা হয়নি বলেও জানান তার আইনজীবী রেমন।
উইলিয়াম গো’র আইনজীবী আরো জানান, তার মক্কেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরিটেক্স’র নামে আরসিবিসি ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন ওই শাখায় ম্যানেজার মিসেস দেগুইতা। বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা আসায় সুবিধা করে দিতে এ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে পরে তাকে জানান আরসিবিসি ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার মিসেস দেগুইতা। টাকা চুরিতে সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী গো’র আইনজীবী রেমন আরও জানান, ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার উইলিয়াম গো’কে জানিয়েছেন যে, এসবে তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি রয়েছে।
এসগিরা অবশ্য স্বীকার করেছেন, ব্যাংকের ওই নারী ম্যানেজারের দেগুইতার সঙ্গে ব্যবসায়ী জো’র চেনাজানা আগে থেকেই ছিল।
শুক্রবার স্বামী-সন্তান নিয়ে জাপান যাওয়ার পথে ম্যানিলা বিমানবন্দরে দেগুইতা আটকে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ী গো’র আইনজীবী আরও দাবি করেন, টাকা চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক ম্যানেজার মিসেস দেগুইতো ওই অ্যাকাউন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার মক্কেলকে। প্রস্তাব গ্রহন না করায় তার মক্কেলকে ১ কোটি পেসো ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। তাতেও রাজি না হলে ঘুষের প্রস্তাব উঠে ২ কোটি পেসেোতে। কিন্তু তাতেও তার মক্কেল রাজি হননি বলে দাবি করেন উইলিয়াম গো’র আইনজীবী।
রিজাল ব্যাংকে যে পাঁচটি অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া টাকা সরানো হয়েছিল, সেই অ্যাকাউন্টধারীর তিনজনকে উইলিয়াম গো চেনেন না বলে দাবি করেন তার আইনজীবী এসগিরা। তবে গো’র আইনজীবী রেমন জানান, ব্যাংকের অপর অ্যাকাউন্টারী চীনা-ফিলিপিনো ব্যবসায়ী কিম অংয়ের সঙ্গে তার মক্কেলের পরিচয় রয়েছে।
এদিকে রিজাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেঞ্জা তান তদন্তের স্বার্থে দায়িত্ব পালন থেকে ছুটি নিয়েছেন বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।
তান পদত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে তার আইনজীবী ফ্রান্সিস লিম বলেছেন, পদত্যাগ নয়, তদন্ত যাতে বাধাহীন হয়, সেজন্য ছুটি নিয়েছেন ব্যাংক প্রেসিডেন্ট।
আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ষ্ট্রিট ব্রাঞ্চে সন্দেহভাজন ছয় ব্যক্তির মধ্যে ৫ ব্যক্তির নামে পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এসব অ্যাকাউন্টের একটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের স্থানান্তরিত হয়েছে। পরে ওই ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মাইয়া সান্তোস দিগুইতার নির্দেশে অন্য চার ব্যক্তির অ্যাকেউন্টে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভাগ করে দেয়া হয়।
ইনকোয়েরার পত্রিকায় প্রকাশের পর চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীসহ ৬ ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহিৃত করে ফিলিপাইন এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল। যাদের মধ্যে উইলিয়াম গো’র সঙ্গে রয়েছেন মাইকেল ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার, আলফ্রেড ভারগারা, এনরিকো ভাসকুইজ এবং কিম অং।