লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : জেলার ব্র্যাকের একটি (যক্ষ্মা) স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনারের বিরানী খেয়ে লিটন(৩৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশু ও সদর হাসপাতালে ৫ চিকিৎসকসহ অন্তত ১৮ জন অসুস্থ্য হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ খবর শুনে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁইয়া অসুস্থ রোগিদের দেখতে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক পরিদর্শন করেন।
নিহত লিটন সদর উপজেলার পৌর শহরের বাঞ্চানগর গ্রামের বাসিন্দা ও উপশম নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আয়া পারুল বেগমের স্বামী।
অসুস্থ্য চিকিৎসকরা হলেন- সদর হাসপাতালে ইএনটি কনসালটেন্ট ডা. ওমর ফারুক, মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. ইকবাল হোসেন, রেডিওলজী কনসালটেন্ট ডা.সালাউদ্দিন, মেডিকেল অফিসার ডা.চিন্ময় সাহা, ডা. বনি আদম। অসুস্থ্য চিকিৎসকদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ডা. আবদুর রহমান খালিদের স্ত্রী ও এক শিশুসহ আরও তিনশিশুসহ অন্তত ১৫জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
খবর নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ডাক্তারদের নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল হল রুমে (যক্ষ্মা) স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে ব্রাক। দুপুরে আগত অতিথিদের খাওয়াতে নাছির বিরানী হাউস নামের একটি বিরানীর দোকান থেকে ৩২ প্যাকেট বিরানী আনে আয়োজকরা। ওই বিরানী খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তারা বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের স্ত্রী (আয়া) পারুল বেগম জানান, সেমিনারের একটি বিরানীর প্যাকেট একজন ডাক্তার তাকে দেয়। পারুল ওই বিরানীর প্যাকেটি বাড়ি নিয়ে স্বামী লিটনকে খাওয়ান। এরপর রাতে লিটনের ডাইরিয়াসহ বমি করতে থাকে। এক পর্যায়ে বুধবার সকালে লিটন নিজ বাড়িতেই মারা যান।
নাছির বিরানী হাউজের মালিক মো. নাছির জানান, ওই দিন ব্রাকের ৩২ প্যাকেট বিরানীর সাথে আরো দু’ প্রতিষ্ঠানের ওডারকৃত ১০৪ প্যাকেট বিরানী তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই দু প্রতিষ্ঠানের কোনো সমস্যা হয়নি। এটা একটি চক্রান্ত। তাদের ব্যবসায়ীক সম্মানহানির জন্য ওই খাবারের সাথে কিছু মেশানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনারে লক্ষ্মীপুর শহরের নাছির বিরানী হাউস থেকে আনা বিরানী খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরানীতে খাদ্য বিষক্রিয়া বা পুরানো বিরানী মেশানো হয়েছিল।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁইয়া জানান, ব্রাকের সেমিনারে নাছির বিরানী খেয়ে আয়া পারুল বেগমের স্বামী লিটনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে সদর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ৫ জন ডাক্তার রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

