যশোর প্রতিনিধি : একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে যশোর এমএম কলেজস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বোমা হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি হাতবোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল।
রোববার ভোরে ও সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- যশোরের শার্শার নৈহাটি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাশেদ খান মেনন (২৪), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ডালভাঙ্গা গ্রামের গোরাইচাঁদের ছেলে ছাত্রলীগকর্মী এ এম আকাশ (২২), একই উপজেলার কচুয়ারপোতা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে জেড এ বিজয় (২২), বাঘাডাঙ্গা গ্রামের তিতাশ মিয়া (২৬), মাগুরার শালিখা উপজেলার নাইখোলা গ্রামের করিম বিশ্বাসের ছেলে শহিদুল ইসলাম (১৯), যশোর শহরের রেলগেট পঞ্চিমপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে রকি (২২), বেনাপোল বন্দর থানার কাগজপুকুর গ্রামের মোসলেম সরদারের ছেলে সুমন রহমান (২১), খুলনার আড়ংঘাটা থানার রংপুর গ্রামের মৃত বিনয়কৃষ্ণ সরকারের ছেলে মিথুন সরকার (২৬), যশোর সদর উপজেলার বাহাদারপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে গাজী হাসান (২৬) ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার মনিদিহি গ্রামের শামছুল হকের ছেলে শাহীন (২২)। তারা সবাই সরকারি এমএম কলেজের আসাদ হলের ছাত্র ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র মীর শাফিন মাহমুদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত ১২ টা ১ মিনিটে ফুল দেয়ার জন্য এমপি কাজী নাবিল আহমেদের নাম মাইকে ঘোষণা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও এমএম কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ডাকা হয়। তাদের ফুল দেয়া শেষ হলেই শহীদ মিনারের পাশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পরে পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এমপি নাবিল আহমেদের সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর এমপির গাড়িচালক গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আটক করেছে।

