ঢাকাWednesday , 17 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলিয়েন খুঁজতে বৃহত্তম টেলিস্কোপ: উচ্ছেদ ৯ হাজার মানুষ

Link Copied!

Eliyenআন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভিনগ্রহের প্রাণি (এলিয়েন) নিয়ে যেন মানুষের জল্পনা কল্পনার কোনো শেষ নেই। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত সবারই নানা মত আছে এলিয়েনের অস্তিত্বের পক্ষে-বিপক্ষে। আর এই রহস্য উন্মোচন করতেই এবার এলিয়েন খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চীন। এজন্য তাদের নয় নাগরিককে নিজেদের পৈত্রিক ভিটা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে যাচ্ছে চীনা সরকার।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সত্যিকার অর্থেই ভিনগ্রহে কোনো প্রাণি আছে কি না- তা শনাক্ত করতে চলতি বছরের শেষের দিকে বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ স্থাপনের কাজ শেষ করতে যাচ্ছে দেশটি। আর এ কারণেই যেখানে টেলিস্কোপটি স্থাপন করা হবে সেখান থেকে সরিয়ে নয় হাজার লোককে সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
১২৭ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গুইঝুতে কাজ চলছে টেলিস্কোপটি স্থাপনের। ২০১১ সালে ওই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। আশা করা হচ্ছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ শেষ হবে কাজটি। আর তার আগেই গুইঝুর পিংটাং এবং লুদিয়ান শহরের নিজেদের বাড়ি থেকে নয় হাজার ১১০ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হবে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া। ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকারের পক্ষ থেকে এদের প্রত্যেককে দেয়া হবে ১২ হাজার ২৭৫ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রার হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
গুইঝু প্রদেশে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লি ইউচেং জানান, এদেরকে স্থানটি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেয়া হবে। এর ফলে প্রয়োজনীয় তরিচ্চৌম্বকীয় তরঙ্গ সৃষ্টির একটি পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে। চীন এই টেলিস্কোপটির নাম দিয়েছে ‘ফাইভ-হান্ড্রেড-মিটার অ্যাপারচার স্ফেরিক্যাল রেডিও টেলিস্কোপ’ (ফাস্ট)।
বেইজিং জানিয়েছে, টেলিস্কোপটি হবে ৫০০ মিটার ব্যাস বিশিষ্ট একটি টেলিস্কোপ। এটি হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ড পুর্তো রিকোতে স্থাপিত ৩০০ মিটার ব্যাসের টেলিস্কোপটি থেকেও ২০০ মিটার বড়। প্রকল্পটির সাথে জড়িত এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, টেলিস্কোপটিকে যদি ওয়াইন দ্বারা পরিপূর্ণ করা হয়, তবে বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের সবাই পাঁচ বোতল করে নিতে পারবে।
তবে বৃহৎ আকৃতি নয়, টেলিস্কোপটিকে মহাকাশ বিষয়ক বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে অগ্রবর্তী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে চীন। টেলিস্কোপটিতে চার হাজার ৪৫০টি তিনকোণাকৃতির প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। চীনা গণমাধ্যম ‘চায়না ডেইলি’ জানিয়েছে, টেলিস্কোপটিকে যদি একবার পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় তবে ওই পরিবর্তনশীল প্যানেলগুলো ব্যবহার করে মহাবিশ্বের দূর অঞ্চল থেকেও রেডিও সিগনাল প্রতিফলিত করা যাবে। টেলিস্কোপটি ৩০ টন রেটিনার সমান ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সিগনাল প্রতিফলিত করতে পারবে।
চীনা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতির মহাপরিচালক উ জিংপিং জানিয়েছেন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রেডিও টেলিস্কোপটি আমাদের গ্যালাক্সির বাইরে কোনো বুদ্ধিমান প্রাণি থাকলে তা খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে। এছাড়া মহাবিশ্বের উৎপত্তি অনুসন্ধানেও এটি সাহায্য করবে বলে জানান তিনি।
প্রজেক্টের প্রধান বিজ্ঞানী ন্যান রেনদং-এর ভাষ্যমতে, ‘টেলিস্কোপ অনেকটা সংবেদনশীল কানের মতো। অসংখ্য অর্থহীন শব্দ থেকে প্রয়োজনীয় শব্দটি নির্ণয় করতে সক্ষম হবে এটি।’ টেলিস্কোপটি হাজার হাজার সৌরবর্ষের দূরত্ব থেকে আসা রেডিও সিগন্যালও ধরতে পারবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
২০১৪ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা কেপলার-৪৫২ বি নামের একটি গ্রহ আবিষ্কার করেছিল, যা কি না পৃথিবীর মতোই বায়ুমণ্ডলের অধিকারী। কিন্তু ওই গ্রহে প্রাণের নিশানা আছে কি না, তা নির্ণয় করার মতো শক্তিশালী কোনো ডিভাইস নাসার কাছে নেই। চীনের এই বিশালাকৃতির টেলিস্কোপ সচল হলে তখন আর এ জাতীয় সমস্যায় ভুগতে হবে না বিজ্ঞানীদের।