গাজীপুর প্রতিনিধি : সরকারি ইজারার নামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর ও মাওনা চৌরাস্তায় অস্থায়ী বাজার বসানো হয়েছে। মহাসড়কের পাশে বসানো এসব বাজার প্রায় সময়ই মহাসড়কের ওপর বসছে। এতে প্রতি নিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত তিন মাসে মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। এক কথায় বলা চলে মহাসড়কের এসব ভাসমান বাজার যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা এসব চিত্র দেখা যায়।
মহাসড়ক ঘেঁষে বাজার বসার কারণে যানজট লেগেই থাকে। ফলে উপকারে আসছে না ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চার লেন। প্রতিনিয়িত যানজটের কবলে পড়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের। আর একটু অসাবধানতার কারণে ক্রমেই ভারী হচ্ছে মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল।
শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ও ছফির উদ্দিন জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, ‘গত ৩ ফেব্রুয়ারি এমসি বাজারের চা বিক্রেতা হুরমুজ আলীর ছেলে আব্দুছ ছালাম এবং ৫ ফেব্রুয়ারি টেপিরবাড়ী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্করের স্ত্রী মহাসড়ক পার হওয়ার সময় মারা যান। তাছাড়া গত তিন মাসে এ এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১০ পথচারী।’
তবে গত ২৫ নভেম্বর মহাসড়ক থেকে অবৈধ বাজার উচ্ছেদ করার তিনি বাদী হয়ে গাজীপুরের দ্বিতীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেছেন। মামলায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সড়কটির দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধেও ভাসমান দোকান থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) হেলালুর রহমান জানান, মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা, বাজার উচ্ছেদের ক্ষমতা সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের। মহাসড়কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হাইওয়ে পুলিশের কাজ। সড়কের ওপর দোকান বসলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

