রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতা আবু বকর সিদ্দিক (৫৫)। তদবির নিয়ে বেশি সময় ব্যস্ত থাকেন বিদ্যালয়ের বাইরে। গত ১০ বছরে ঠিকমতো ২ মাসও স্কুলে আসেননি তিনি। শ্রেণিকক্ষে কখনও পাঠদান করেননি। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধাদিসহ প্রতি মাসেই বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার পূর্ব চরকাচিয়া এসকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
সরজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সময় বেলা সাড়ে ১১টার পর স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করছে। প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের ২০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে নোংরা পরিবেশ। মনে হয়েছিল কোনদিনই ঝাড়ু দেয়া হয়নি।
হঠাৎ সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক মুনছুর আহমদ দৌড়ে এসে শিক্ষক রুমে ঢুকে হাজিরা খাতা হাতে নিয়ে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজ থাকায় বিদ্যালয়ে আসতে দেরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক মাঝে মধ্যে আসেন, তবে বেশিরভাগ সময় অফিসিয়াল কাজে বাইরে গেলেও বিদ্যালয়ে আর ফিরে আসে না। প্রধান শিক্ষকের মতোই অন্যান্য শিক্ষকরাও অনিয়ম-দুর্নীতি করে চলেছেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, স্কুলে কোনো লেখাপড়া হয় না। প্রধান শিক্ষক কয়েক মাস পরপর এক-দু’বার আসেন। এছাড়া তিনি কোনদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেননি। অন্য শিক্ষকরাও ঠিকমতো ক্লাসে আসেন না।
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, আবু বকর সিদ্দিক ১৯৯১ সালে পূর্ব চরকাচিয়া এসকে রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসার পর এ স্কুলটিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ অনুযায়ী সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধাদি নিয়েও স্কুলে আসেন না। স্কুলে না এসে অন্য শিক্ষকদের মাধ্যমে বাড়িতে হাজিরা খাতা নিয়ে তাতে স্বাক্ষর দেন। ওই অনুযায়ী তিনি স্কুলে উপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু গত ১০ বছরের মধ্যে ২ মাসও স্কুলে না এসে বেতন-ভাতা ঠিকই তুলে নিচ্ছেন। স্কুলে কোনো লেখাপড়া হয় না। গত সমাপনী পরীক্ষায় ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে এক ছাত্র সি এবং ২৩ জন ডি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
তারা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক স্কুলে না এসে পল্লীবিদ্যুৎ ও শিক্ষক বদলিসহ বিভিন্ন স্থানে দালালি করে সময় অতিবাহিত করে বাড়ি চলে যান। একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করার সাহস পায় না।
প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে এলাকার একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে এবং তার সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ না আসায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

