কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালিত বাইসাইকেল দেখতে ও শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এমন একটি সাইকেল তৈরি করেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকার দশম শ্রেণির ছাত্র বাবুল হোসেন।
সে উপজেলার চামনাই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় জয়রামপুর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এই বাইসাইকেলে কোনো চার্জের খরচ নেই। দিনের বেলায় এটি সূর্যের আলোয় চার্জ হয়। স্বাভাবিক সাইকেল যেভাবে প্যাডেল ব্যবহার করে চালাতে হয় ঠিক সেভাবেই চলাতে হবে। তাতে অটোমেটিক ব্যাটারিগুলো চার্জ হতে থাকবে। আর এই সাইকেল বেশি ভারিও নয়। এটি সাধারণ সাইকেলের থেকে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন। মোটর লাগানো তবুও বিদ্যুৎ খরচ করে চার্জ দিতে হয় না। আর তেল খরচ নেই।
শহরেও এটির চাহিদা আছে অনেক। সাইকেলটি শহরে বের করলেই সবাই কেমন যেন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আর বর্তমানে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি আরেকটি বৈদ্যুতিক চার্জেচালিত সাইকেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তার দামও অনেক বেশি।
সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাইসাইকেলের আবিষ্কারক বাবুল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের একটি সোলার সাইকেল তৈরি করতে প্রয়োজন একটি যেকোনো সাইকেল, ২০ ওয়াটের ১টি সোলার প্যানেল, ২৪ ভোল্টের ২টি ব্যাটারি, পিকআপ সেট, ১টি ডিসি মোটর ও ১টি আইপিএস। আর এতে খুব জোর হলে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আমি মনে করি যেহেতু এটি বাণিজ্যিকভাবে দেশের জন্য লাভজনক সেহেতু সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পেলে আমি এটাকে বাজারজাত করতে পারবো। যা আমাদের চলার পথকে ছোট করে দেবে ও দেশের জন্য অনেক লাভজনক হবে।’
চামনাই মোজাদ্দেীয়া দরবার শরীফের হুজুর মওলানা মো. গোলাম রসুল জানান, আমার গ্রামের ছেলে বাবুল হোসেন সৌরবিদ্যুৎচালিত বাইসাইকেল আবিষ্কার করায় আমরা গর্বিত। কারণ বিদ্যুতের অপচয় রোধ করে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালিত সাইকেল আবিষ্কার করায় দেশের জন্য অনেক পাওয়া জাতির জন্য অনেক পাওয়া।
হাজি ওয়াজেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম জানান, এই সোলার সাইকেল একদিকে যেমন বিদ্যুতের সাশ্রয় তেমনি পরিবেশবান্ধবও বটে।
একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আবিষ্কৃত এই সোলারসাইকেল বাণিজ্যিকভাবে তৈরিতে সরকারি সহযোগিতা দেয়া দরকার বলে অনেকে দাবি করেন।

