গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড নামের টায়ার থেকে তেল তৈরি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আবদুল কাদের (৬০)। রোববার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোজাম্মেল হোসেন দগ্ধ আবদুল কাদেরের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে ওই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়জনে।
কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন- খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২১), মাদারীপুর সদরের খামারবাড়ি এলাকার সোবহান তালুকদারের ছেলে আলহাজ (২৩), স্থানীয় বারইবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সিদ্দিকা জেবুন্নেসা (৩০), তিনি নেত্রকোনার মদন উপজেলার চানগাঁও গ্রামের দিলোয়ার হোসেনের স্ত্রী; কারখানার নিরাপত্তাকর্মী স্থানীয় বসুগাঁও এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে সেলিম মোল্লা (৪৫), মাদারীপুরের ডাসার থানার ভাগুরিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে কাওসার বিশ্বাস (৩৪) এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোববার সকালে মারা যান কারখানার সুপারভাইজার আবদুল কাদের (৫৫)।
গতকাল শনিবার বিকেলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলের স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে টিনশেডের ওই কারখানার চালাসহ ধসে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এ সময় কারখানার পার্শ্ববর্তী জয়দেবপুর-পূবাইল সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় অটোরিকশাযাত্রী স্কুলশিক্ষিকাসহ ৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অগ্নিদগ্ধ হন আরো তিনজন। টঙ্গী ও জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার সকালেও কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। দমকল কর্মীরা ড্যাম্পিংয়ের কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর আগে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলার উপপরিচালক সোনিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম জানান, কারখানাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছিল। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল কারখানা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোনিয়া সুলতানা জানান, ইতিপূর্বেও এ কারখানাটিকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরে তাদের কারখানাটি চালানোর জন্য আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু শর্ত পূরণ করতে বলা হয়। গেল ১৯ জানুয়ারি কারখানা পরিদর্শন করতে এসে দেখা গেছে ওই সব শর্ত পূরণ হয়নি। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় শনিবার বিকেলে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে।
অন্যদিকে, ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস আরো একটি তদন্ত কমিটি করেছে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জেলা সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ আকন্দকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

