নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা তৈরির জন্য আজ প্রধানন্ত্রীর কার্যালয়ের এসএসএফ ব্রিফিং রুমে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পচিালক সোনিয়া বশির কবির। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোসফটের সাউথ-ইস্ট এশিয়া নিউ মার্কেটস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মিশেল সিমন্স।
কবির বিন আনোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নারী এবং পুরুষ উদ্যোক্তার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নারী উদ্যেক্তাগণ থাকার কারণে গ্রামাঞ্চলে নারীদের সেবা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল সেন্টারে নারীদের নিয়ে মাইক্রোসফটের এ প্রশিক্ষণ তাদেরকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে এত অগ্রগতি শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। পুলিশ, আর্মিসহ সমস্ত সরকারি বেসসরকারি অফিসে মেয়েদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নারীদের পেছনে রেখে একটি সমাজ অগ্রসর হতে পারে না। মাইক্রোসফট মেয়েদের এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করায় আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত।
মিশেল সিমন্স বলেন, বাংলাদেশের নারীদের আইসিটি সেক্টরে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ বড় ভূমিকা রাখবে। দেশের ডিজিটাল ইকোনমিতে এরাও অবদান রাখবে। মাইক্রোসফটের লক্ষ্য এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে আগ্রহী করার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা।
সোনিয়া বশির কবির বলেন, মাইক্রোসফট বিশ্বাস করে নারীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তারা টেকনোলজিতে পিছিয়ে থাকবে এটা আমরা চাই না। তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ দেশের ৫২০০ জনের বেশি নারী কাজ করার সুযোগ পাবে। মাইক্রোসফট বাংলাদেশের নারীদের প্রযুক্তিতে যুক্ত করার ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী আর সে অনুযায়ী এই খাতে নারীদের চাকরি করার যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে তোলা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয় ডিজিটাল সেন্টার হলো ইউনিয়ন পবিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সেবা সমৃদ্ধ একটি আধুনিক কেন্দ্র। এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত ২০ কোটি ৬০ লক্ষ সেবা প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে বিদেশ গমনেচ্ছু ২০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক ও পেশাজীবীদের অনলাইন নিবন্ধন এবং সেন্টারে বসে আবেদন করে বাড়িতে বসে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার জমির পরচা লাভ ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা পাওয়ার অন্যন্য নজির।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এখন গ্রামে বসেই ২ লক্ষ ৭৯ হাজার জীবন বীমা গ্রাহক সহ সরকারি ফরম পূরণ, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু বিন্ধন, ই-মেইল- ইন্টারনেট ব্যবহার, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ ১০২ ধরনের সরকারি-বেসরকারি এবং বাণিজ্যিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৫২৭৩টি গ্রামীণ উদ্যেক্তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটুআই প্রোগ্রাম-এর জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তাসহ এটুআই প্রোগ্রাম ও মাইক্রোসফটের কর্মকর্তাগণ।

