কক্সবাজার প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবন উপকূল এলাকায় ২৫ জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে ডাকাতরা। কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন মালিকের ফিশিং ট্রলারে করে এসব জেলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকাতির শিকার ট্রলার মালিকরা এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রলার মালিকরা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গভীর সাগরের সুন্দরবন উপকূলের বড়খালী ও মেহের আলীর চর এলাকায় শতাধিক ফিশিং ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়। এসব ট্রলারের মাছ-জাল লুট করার পাশাপাশি প্রতি ট্রলারের দুই-তিন জন করে জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এর মধ্যে কুতুবদিয়ার ১২টি ফিশিং ট্রলারও রয়েছে। এসব ট্রলারের ২৫ জন জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। মুক্তিপণ না দিলে এসব জেলেদের মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে ডাকাতরা।
এদিকে ট্রলার মালিকরা কুতুবিদয়ার অপহৃত জেলেদের ১৮ জনের নাম উল্লেখ করতে পারলেও ৭ জনের নাম জানাতে পারেননি।
অপহৃত জেলেরা হলেন- কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল কুমিরারছড়া এলাকার রত্নসেন কোম্পানির এফ.বি সাগর-২ এবং এফ.বি সাগর-৩ দুই ফিশিং ট্রলারের সুজন জলদাস (৩২), সুভাষ জলদাস (২২) ও নুর হোসেন (৩৪), একই এলাকার আলমগীর কোম্পানির এফ.বি হাজি ছৈয়দা খাতুন ট্রলারের মিন্টু জলদাস (৪০), মোহাম্মদ রহিম ওরফে রহিম ড্রাইভার (২৮), শেখ কামাল কোম্পানির এফ.বি খাজা আজমীর ট্রলারের নাছির উদ্দিন (৪৫), লেডু ড্রাইভার (৪১), বড়ঘোপ এলাকার ছাবের আহমদ কোম্পানির এফ.বি নাহিন ট্রলারের মাহাবুবুল হক (৩৮), এফ.বি মাবিয়া ট্রলারের মো. হোসেন (৩৭), সত্যরঞ্জন কোম্পানির এফ.বি দূর্গা ট্রলারের আজলা দাশ (৩৪), এফ.বি মা লক্ষ্মী ট্রলারের আনন্দ দাশ (৪৫), দিদার কোম্পানির এফ.বি বায়তুশ শরফ ট্রলারের মো. হাছান ওরফে কালাসোনা (৩৫), রশিদ আহমদ বইল্যা কোম্পানির এফ.বি শাহেলা ট্রলারের জিয়াবুল হক (৪৩), গিয়াস উদ্দিন ওরফে কালাবদা (৩৭), বিভীষণ দাশ কোম্পানির এফ.বি মা দূর্গা ট্রলারের আদিনাথ দাশ ওরফে গুরাবুইজ্জ্যা (৪৩), ইসমাইল কোম্পানির এফ.বি আল্লাহ দান ট্রলারের আলী হায়দার কালু (৫৫), মনছুর কোম্পানির এফ.বি ড্যানিস ট্রলারের ইউনুছ (৩২) ও মালিক মনছুর (৩০)।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রলার মালিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রত্নসেন, আলমগীর, শেখ কামাল, বিভীষণ, রশিদ আহমদসহ অপহৃতদের কয়েকজন স্বজনও।
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অংসা থোয়াই জানান, কুতুবদিয়ার ১২টি ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে বলেও শুনেছেন তিনি।

