রংপুর প্রতিনিধি : জেলার গঙ্গাচড়ায় কুটিপাড়া চেংমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য এমদাদুল হক অবৈধভাবে দখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হলেও তিনি দখল ছেড়ে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে কাঙ্ক্ষিত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে এর আগে মন্দির, আবাসন ও খাস জমি জবরদখলেরও অভিযোগ আছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান এবং প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার ইউনিয়নের চেংমারি উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর অনেকেই সেখানে জমি দান করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষও নিজস্ব অর্থায়ন থেকে সাদ্দাম বাজারের পাশে ৯ শতক জমি করে। ওই ৯ শতক জমি দীর্ঘদিন থেকে ঘেরা দিয়ে দখলে নিয়ে রেখেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমদাদুল হক। স্কুল কর্তৃপক্ষ জমিটি দখল করার জন্য কয়েক দফায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে তার প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে।
এ বিষয়ে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘২০০০ সালের দিকে স্কুলের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে সাদ্দাম বাজারের পাশের ওই ক্রয়কৃত জমি দখলে নেয়ার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্রছাত্রীরা চেষ্টা করেন। কিন্তু এমদাদুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় সেটি আমরা করতে পারিনি। এমাদাদুল হক সরকারের খাস জমি লিজ নিয়েছে। আর স্কুলের জমি দখল করে সেই জমি তার আয়ত্বে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ অনেক কষ্ট করে ওই জমিটি কিনেছে। সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়ার টাকা দিয়ে স্কুলের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু ওনি সেই জমি জোড় করে রেকর্ড করে নিয়ে দখল করে ভোগ করছে দীর্ঘ দুই দশক ধরে। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ আবারও রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছে।’
এ বিষয়ে তিনি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি আফসারুল ইসলাম জানান, চার মাস আগে বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য এবং সাধারণ মানুষ বৈঠকে বসে। এসময় স্কুলের জমি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বৈঠকে একটি বোর্ড গঠন হয়। কিন্তু এমদাদুল হক প্রভাবখাটিয়ে সেই বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানে নি। বরং জমিটি তার দখলে রেখেছেন। এতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আয় বঞ্চিত হচ্ছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ত্রৈলক্ষ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের ক্রয়কৃত ৯ শতক জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। বিভিন্ন সময় জমিটি ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপে সাড়া না দিয়ে বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্কুলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, চেংমারি কালি মন্দিরের খাস ৩৯ শতক জমি দখল করে রেখেছিল ওই এমদাদুল হক। জতিন ও বিতিন চন্দ্রসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ১৯৯২ সালে জমিটি দখল মুক্ত করে সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে। শুধু তাই নয়, খারভাজ বিলের উত্তরপার্শ্বে আবাসনের জন্য দেয়া সরকারি খাস জমিও অবৈধভাবে দখলে নিয়ে ভোগ দখল করে আসছিল ওই আওয়ামী লীগ নেতা। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর আবাসনের লোকজন তার কাছ থেকে দখলমুক্ত করে।
স্থানীয় শহিদার রহমান ও নওশা মিয়া জানান, তারা বিলের উত্তর পশ্চিম কোনে জনৈক ওসমান দেওয়ানির কাছ থেকে এক একর জমি ক্রয় করেছিলেন। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী এক একর খাস জমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নেয় ওই আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক। কিন্তু তিনি খাস জমি বাদ দিয়েও শহিদার রহমান ও নওশা মিয়ার ওই এক একর জমি নিজের দাবি করে দখল করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হলেও তিনি ছেড়ে না দেয়ায় এক পর্যায়ে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে নওশা ও শহিদার রহমানের জমি এমদাদুল হকের কাছ থেকে দখলমুক্ত করে। এরকম অনেকেই এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে এমদাদুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

