স্পোর্টস ডেস্ক : কেপটাউনের নিউল্যান্ডস রানবন্যা দেখছে। ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৬২৯ রান তোলা দেখে মনে হয়েছিল আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরা দক্ষিণ আফ্রিকা রান চাপায় আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু হাশিম আমলার ক্যারিয়ারে চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি এবং টেম্বা বাভুমার সেঞ্চুরির কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকা ২ রানে পিছিয়ে থেকে ৬ উইকেটে ৬২৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার চতুর্থ দিন শেষে ইংল্যান্ড বিনা উইকেটে ১৬ রান তুলে তুলেছে। তারা এগিয়ে রয়েছে ১৮ রানে। পঞ্চম এবং শেষ দিনে নাটকীয় কিছুর অবতারণা না হলে কেপটাউন টেস্টের ললাটে ড্র লেখা হয়ে গেছে একথা বলাই যায়।
এদিন আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩৫৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেন আমলা এবং ফ্যাফ ডু প্লেসিস। ধৈর্য্য দেখিয়েও সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন ডু প্লেসিস। তিনি ২১৬ বলে ১১টি চার মেরে ৮৬ রানে আউট হয়ে গেছেন।
তবে ক্যারিয়ারে চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি আমলা। তৃতীয় দিনশেষে ১৫৭ রানে অপরাজিত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক এদিন আরও ৪৪ রান যোগ করে ২০১ রানে স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে বোল্ড হয়ে যান। এই রান করতে আমলা খেলেছেন ৪৭৭ বল। বাউন্ডারী মেরেছেন ২৭টি। আমলা তার ইনিংসটি খেলতে সময় নিয়েছেন ১১ ঘন্টা ৪৭ মিনিট। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে তার ইনিংসটি তৃতীয় সর্বোচ্চ নাতিদীর্ঘ ইনিংস। এরআগে ২৭৫ রান করতে ৬৪২ বল খেলেছিলেন গ্যারি কারস্টেন এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ডারবানে, ১৯৯৯ সালে। দ্বিতীয় নাতিদীর্ঘ ইনিংসটি মাইকেল আথারটনের। তিনি ১৯৯৫ সালে জোহান্সবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ৪৯২ বলে।
এরপর প্রোটিয়া ইনিংসকে টানতে থাকেন বাভুমা এবং ক্রিস মরিসের সপ্তম উইকেট জুটি। দু’জনে মিলে ১৬৭ রান তুলে ইংলিশ বোলারদের হতাশ করেন। জীবনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন বাভুমা। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১০২ রানে। বাভুমা তার এই ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৪৮ বলে ১৬টি চারের সাহায্যে।
অভিষিক্ত ক্রিস মরিস ৬৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন। ১১১ রানে খেলা তার এই ইনিংসে ছিল দশটি বাউন্ডারী। ব্রড ৯৪ এবং স্টিভেন ফিন ১৩২ রানে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে ইংল্যান্ড কোন উইকেট না হারিয়ে তুলেছে ১৬ রান। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক ৮ এবং অ্যালেক্স হেলস ৫ রানে।

