ঢাকাTuesday , 5 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তামাকের বিরুদ্ধে আপোষহীন প্রধানমন্ত্রী

Link Copied!

tamakনিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভাস, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও তামাক ব্যবহারজনিত কারণে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তামাক কোম্পানিসহ অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক তৎপরতার কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন প্রতিহত করা আবশ্যক।
সোমবার বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনের ঘোষণায় এমন বক্তব্য উঠে আসে।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টসহ সমমনা ১২টি সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সমাপনী অধিবেশনে খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলোসহ তামাকের পক্ষের শক্তিগুলো অনেক শক্তিশালী। কিন্তু তারা যতোই শক্তিশালী হোক না স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে একেবারেই আপোষহীন।’
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আপোষহীনভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। তামাকজাতদ্রব্যসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, জাংক ফুড থেকে শিশুদের রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি পরিবারের অভিভাবকদের সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ছেলেমেয়েদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল তুলে না দিয়ে তাদেরকে খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে যুগান্তকারী নিরাপদ খাদ্য আইন পাস করেছে। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন হলে খাদ্যজনিত রোগের ঝুঁকি ৯০ ভাগ কমে আসবে।’
রাজনীতিক ও জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতির (নাটাব) সহ-সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্নভাবে মোড়কে ছবিসহ সর্তকবাণী প্রদানের যে আইন আছে তা মানছে না উল্টো ষড়যন্ত্র করছে। সংসদে পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রতি বর্তমান সরকার অঙ্গিকারবদ্ধ। তাই সরকারকে তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে আইনের আলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছবিসহ সর্তকবাণী প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি এসব পণ্যের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
সদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক কোম্পানির আগ্রাসন রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষ হওয়ার পরও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের জন্য খাদ্য নিরাপত্তায় আমরা সফল। সরকারকে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এবং অস্বাস্থ্যকর ও ক্ষতিকর খাদ্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে।’
এসময় তামাজাতদ্রব্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যরক্ষায় ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড, হাই প্রসেস ফুড নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান বলেন, ‘দেশে সুনিদিষ্ট বিজ্ঞাপন নীতিমালা না থাকায় কোম্পানিনীগুলো বিভিন্ন ভ্রান্তকর বিজ্ঞাপন প্রচার করে শিশুদের নানা প্রকার ক্ষতিকর খাবারে অভ্যস্ত করা হচ্ছে। কোম্পানি এসব বিভ্রান্তকর ও ক্ষতিকর প্রচারণার বিপক্ষে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করতে হবে। শাক-সবজি-ফলমূল উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।’
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘তামাক সেবনের কারণে ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগ হয়। তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে। পাশাপাশি তামাকের মতো ক্ষতিকর অন্যান্য উপাদান, যেমন- কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ তিনি মোবাইল রেডিয়েশনের ক্ষতিকর দিকও তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিক্ষিপ্তভাবে আমাদের কাজ করলে হবে না। আমাদের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।’
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন- আন্তর্জাতিক সংগঠন দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের মূখপত্র সমস্বরের নির্বাহী সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজন।
সম্মেলনে দিনব্যাপী সমন্বিত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য উন্নয়নে টেকসই অর্থায়ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এ চারটি সেশনে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। সারাদেশের প্রায় দেড় শতাধিক সংস্থার প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। এর আগে সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, বাংলাদেশ ইউনিভাসির্টি অব হেলথ সাইন্সের উপাচার্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, এশিয়ান ইউনিভাসিটি ফর  উইমেন, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, বাংলাদেশ ইউনিভাসিটি অব হেলথ সাইন্স, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটি, হেলথব্রিজ-কানাডা, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব), জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, দি পিপলস ইউনিভাসিটি অব বাংলাদেশসহ আয়োজক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।