নিজস্ব প্রতিবেদক : সোমবার থেকে সদ্য সমাপ্ত ২১৪ পৌরসভায় নির্বাচনে মেয়র বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩০ ডিসেম্বর একই দিনে ২৩৪ পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মিজানুর রহমান জানান, পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ীদের সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশের জন্য তাদের নাম ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করতে কমিশন ফাইল প্রস্তুত করেছে। কমিশনে ফাইল অনুমোদন হলে সোমবারের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হবে।
পৌরসভা নির্বাচনে ৭টিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় মেয়র পদে ভোট হয়েছে ২২৭টিতে। এর মধ্যে ২০৭টির বেসরকারি ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পৌরসভার ভোট বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১৯ পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করায় ফলাফল ঘোষণা বাকি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭টিসহ মোট ১৬৮টিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া বিএনপি ১৯, জাতীয় পার্টি ১ ও স্বতন্ত্ররা ২৬টি পৌরসভায় জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র ২৬টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াত-সমর্থক প্রার্থী আছেন।
যদিও নির্বাচনী আইন মোতাবেক, পৌর নির্বাচনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য কমিশন সংশ্লিষ্ট যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে। গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবে। ফলে নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিকার চাইতে প্রার্থীদের ফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।
এ বিষয়ে ইসির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করতে এসব পৌরসভার গেজেট বিজি প্রেসে পাঠানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব গেজেট রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। স্থগিত পৌরসভা ছাড়া অন্যসব পৌরসভার ফলাফল বিজি প্রেসে পাঠানো হচ্ছে।
ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ২০ দিনের মধ্যেই বিজয়ীদের শপথ অনুষ্ঠান করতে হবে। নির্বাচিতদের শপথ করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোর বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোট হয়। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২০টি দল এবারের পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে আওয়ামী লীগের ২৩৪, বিএনপি ২২৩ ও জাতীয় পার্টি ৭৪ প্রার্থীসহ ৯৪৫ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন।
কেন্দ্র স্থগিত থাকা পৌরসভাগুলো বাদ দিয়ে বাকি পৌরসভায় মেয়র পদে ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ভোটারের মধ্যে ৪৪ লাখ ৮১ হাজারের বেশি ভোট পড়ে। সে হিসাবে গড়ে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

