অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ঋণ পুনঃতফসিল ও খেলাপী ঋণ আদায়ের কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। এছাড়া সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সময়ে দেয়া ঋণ থেকেও বড় ধরনের আয় আসায় সামগ্রিকভাবে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত ও অবলোপন করা ঋণ আদায় হলেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। আগামীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মুনাফা আরও বাড়বে বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এবারও সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে ইসলামী ব্যাংক। বিদায়ী বছরে তারা পরিচালন মুনাফা করেছে ১ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। আগের বছরে মুনাফা করেছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাউথইস্ট ব্যাংক। বিদায়ী বছরে তাদের অর্জিত মুনাফার পরিমাণ ৮৩৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৮৩২ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে পূবালী ব্যাংক, তাদের অর্জিত মুনাফা ৮১০ কোটি টাকা। ৭৬০ কোটি টাকা মুনাফা করে চতুর্থ অবস্থানে আছে এবি ব্যাংক।
সূত্র জানায়, এবার ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার বড় অংশই এসেছে কমিশন, সার্ভিস চার্জ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসার আয় থেকে। ব্যাংকের আয়ের প্রধান খাত সুদ হলেও এবার এ খাত থেকে আদায় হয়েছে খুবই কম। যে কারণে মুনাফার অঙ্ক খুব বেশি বাড়েনি।
পরিচালন মুনাফা থেকে ব্যাংকগুলোকে আগে নিয়মিত ঋণ ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হবে। নিয়মিত ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ১ থেকে ২ শতাংশ, খেলাপির মধ্যে নিম্নমান ঋণে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ ঋণে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। এর পরে মূলধন বাড়াতে তহবিলের একটি অংশ নিতে হবে রিজার্ভ তহবিলে। পরিশোধ করতে হবে সাড়ে ৪১ শতাংশ হারে আয়কর। এরপরে যা থাকবে তা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়া যাবে। বিদায়ী বছরে ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ বাড়লেও খেলাপী ঋণ আদায় বেড়েছে। যদিও খেলাপী ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো প্রভিশন করতে গিয়ে সুদ বেশি আদায় করতে পারছে না। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঋণ খেলাপি হলে তার বিপরীতে সুদ আয় খাতে নেয়া যায় না। ফলে ব্যাংকগুলোর আয় কম হয়েছে। এর বাইরে ঋণ পুনর্গঠনের নামে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এর বিপরীতে ডাউন পেমেন্ট নেয়া হয়েছে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। ছাড় দেয়া হয়েছে সুদের হারেও।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবার পরিচালন মুনাফা করেছে প্রায় ৮৩৩ কোটি টাকা, আগের বছরে ছিল ৮৩৩ কোটি টাকা। এবি ব্যাংক ৭৬০ কোটি টাকা, আগের বছরে ছিল ৭৩৭ কোটি টাকা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৬৭০ কোটি টাকা, আগের বছরে ছিল ৫৬০ কোটি টাকা; আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ৬৫০ কোটি টাকা, আগের বছরে ছিল ৬১৩ কোটি টাকা; এক্সিম ব্যাংক ৬৬০ কোটি টাকা, আগের বছরে ছিল ৬২৫ কোটি টাকা; ব্যাংক এশিয়া ৬০৫ কোটি টাকা, আগের বছর যা ছিল ৫৭৮ কোটি টাকা; সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৫৫০ কোটি টাকা, আগের বছর ৪৫০ কোটি টাকা; এনসিসি ব্যাংক ৪১৯ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ৩৮৭ কোটি টাকা; আইএফসি ব্যাংক ৪০৬ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ৩৯১ কোটি টাকা; মিউচুয়াল ট্রাস্ট্র ব্যাংক ৩০৩ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ২৭৩ কোটি টাকা; শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ২৭০ কোটি টাকা, আগের বছরে ছিল ২৫০ কোটি টাকা। নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পরিচালন মুনাফা করেছে ইউনিয়ন ব্যাংক। ২০০৫ সালে ব্যাংকটি ১১২ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে, আগের বছর ছিল ৪২ কোটি টাকা। এছাড়া মধুমতি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ১০৬ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল যথাক্রমে ৫২ ও ৪০ কোটি টাকা। সাউথ বাংলা ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ৮১ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ৩২ কোটি টাকা।

