ঢাকাSaturday , 2 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বছরজুড়ে আলোচনার শীর্ষে ছিল ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার’

Link Copied!

tribunalনিজস্ব প্রতিবেদক : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে বলে কথা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই চলে আসছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া। তবে বিগত বছরগুলোর থেকে ২০১৫ সালটি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। কেননা এ বছরই ঘটেছে ট্রাইব্যুনাল অবমাননায় সাজা, আসামিদেরকে অব্যাহতি, ট্রাইব্যুনাল-২ এর নিষ্ক্রিয়তা, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো ঘটনা। একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের বিচার চলছে সমানভাবে। শীর্ষ পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষে শুরু হয় মাঠপর্যায়ের প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
ট্রাইব্যুনাল অবমাননায় জাফরউল্লাহকে সাজা:
বিগত ১০ জুনের ঘটনা। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়ায় আদালত অবমাননার মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে এক ঘণ্টার সাজা খাটেন গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তবে রায়ে উল্লেখিত সাজার পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সাজার বিরুদ্ধে আপীল করেন তিনি। জাফরউল্লাহর এটি ছিল ট্রাইব্যুনাল অবমননার দ্বিতীয় ঘটনা। তাই প্রথম আলো পত্রিকায় বিবৃতিদাতা অন্য ৪৯ জনকে সতর্ক করে ক্ষমা করা হয়, শুধু জাফরউল্লাহকেই সাজা প্রদান করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২। পরে আপিলের মাধ্যমে জারিমানার ৫ হাজার টাকা থেকে মুক্তি পান গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী।
তিন আসামির দণ্ড কার্যকর:
ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালে রায় কার্যকর হয়েছে তিন যুদ্ধাপরাধীর। তারা হলেন- জামায়াতের সিনিয়র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
আসামিদের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ এবং পরে রিভিউ আবেদনের আদেশ পায়। এরপর ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মৃত্যু পরোয়ানা হয়ে তা কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।
৩ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি:
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক যশোরের অজিহার মোড়ল ও আকরাম হোসেনকে এবং পলাতক মশিউর রহমানকে যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল একেবারেই প্রথম। তবে এ মামলায় এখনো ৯ আসামির বিচার কাজ পরিচালনা করছেন ট্রাইব্যুনাল।
বর্তমান সাংসদের বিচার করছে ট্রাইব্যুনাল:
গত ১ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছেলেসহ জাতীয় পার্টির ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ হান্নানকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ১ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। সংসদীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও এই সাংসদের বিচারকে ঘিরে চলছে দিন গণনা। কেননা এ মামলায় আবদুল হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অগ্রগতি তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নিষ্ক্রিয় করা হয়:
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আগে থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নিষ্ক্রিয়ের বিষয়ে সংবাদ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে মামলা গুরুত্ব হারাতে শুরু করলে আইনমন্ত্রী তার কথার বাস্তবায়ন ঘটান। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ সক্রিয় রেখে ট্রাইব্যুনাল-২ নিষ্ক্রিয় করা হয়।
একইসঙ্গে বিচারপতি আনোয়ারুল হককে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠন করা হয়। তিনি ট্রাইব্যুনাল-১ সদস্য বিচারপতি হিসেবে ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এ কর্মরত সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলামকে সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীকে সদস্য করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে বেড়েছে মামলা সংখ্যা:
ট্রাইব্যুনাল-২ নিষ্ক্রিয় হওয়ার পূর্বে দু’টি ট্রাইব্যুনাল থেকে ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বাইরে চলতি বছরে যোগ হয়েছে আরো ছয়টি মামলা। আর সব মিলিয়ে এ মূহূর্তে ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে বিচার চলছে মোট ১৭টি মামলার। তবে খুব শিগগিরই তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে বিচার জন্য আসছে আরো ১২টি মামলা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের শুরু থেকেই চলে এসেছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে গিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে চলেছে। এমনকি রায় কার্যকর বা বানচালের সব অপচেষ্টাও উপেক্ষিত হয়েছে কাদের মোল্লাসহ মোট চারটি রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে। নতুন বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যুক্ত হবে অসংখ্য আসামি। তাদের বিচারের মধ্য দিয়ে দেশ কলঙ্কমুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।