অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল হতে ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবেলাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে অনুদানের এ টাকা ব্যয় করার কথা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের হাতে চেক তুলে দেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ কোটি ৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সুপারিশের বিপরীতে প্রথম পর্বে ২ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছে- বাংলাদেশ পৌষ (২৫ লাখ), অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ (১০ লাখ), ওয়ান ডিগ্রি ইনিশিয়েটিভ (২০ লাখ), বাংলাদেশ অ্যারচারি ফেডারেশন (২০ লাখ), ই-এডুকেশন বাংলাদেশ (২০ লাখ), সাপ্তাহিক শিক্ষা বিচিত্রা এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্টাডিজ (এআরডিএস) (২০ লাখ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার পিজে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল (২৮ লাখ), বীর মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যুৎ চৌধুরী ফাউন্ডেশন (১০ লাখ), রামকৃষ্ণ মিশন (১৫ লাখ), বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া হাসপাতাল (২০ লাখ), অন্বেষণ (২০ লাখ), বস (৯ লাখ ৫২ হাজার), এসড (৭ লাখ ৩২ হাজার) এবং উত্তরা ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটিকে (১৬ লাখ ৫ হাজার টাকার) চেক দেয়া হয়।
এসময় আতিউর রহমান বলেন, ‘আজকে যাদের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলাম তারা মূলত: আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ, মানব সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি প্রভৃতি ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আপনাদের প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক কাঠামোর প্রেক্ষাপটে একটি কাঙ্ক্ষিত কৌশল হবে বলে মনে করি। আমি আশা করবো এসব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আপনারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।’
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রমের পরিসর বিগত বছরগুলোর তুলনায় সন্তোষজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক কাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে ও সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বর্ধিত হারে ব্যাংকগুলো কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। তবে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিএসআর এর মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ খাতে আরও ব্যাপকতর কার্যক্রম পরিচালনা করার অবকাশ থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআর কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকও একটা দায়বদ্ধতা অনুভব করে। এ দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করি। যার ফসল এই বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল। যেটি ৫০ হাজার টাকা থেকে এখন ১০ কোটি টাকার তহবিল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মহাব্যবস্থাপক মনোজ কুমার বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক মোহম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মনোজ কুমার বিশ্বাস।

