নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার চার সহযোগীকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিনের আদালতে আত্মসর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন।
এরা হলেন, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া ও মো. আমিনুল ইসলাম। রানা প্লাজা ধসের কারণে দায়ের করা হত্যা মামলায় জেলহাজতে যাওয়া এই চারজন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার সহ-আসামি।
আজ শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর একই আদালত মামলাটির চার্জশিট গ্রহণ করে ৪১ জন আসামির মধ্যে আত্মসমর্পণকৃত ৪ জনসহ পলাতক ২৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর ১৯ জন হলেন, সাভার পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাভার পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ, উপ-প্রধান পরিদর্শক (সাধারন ঢাকা বিভাগ ) মো. জামশেদুর রহমান, উপ-প্রধান পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিদর্শক প্রকৌশল মো. ইউসুফ আলী, পরিদর্শক প্রকৌশল ঢাকা বিভাগ মো. সহিদুল ইসলাম, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন, ইতার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনি, রেজাউল ইসলাম, নান্টু কন্টাকটার, মো. আব্দুল হামিদ, আব্দুল মজিদ, নয়ন মিয়া, মো. ইউসুফ আলী ও তসলিম।
মামলাটির চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিদের মধ্যে একমাত্র ভবন মালিক সোহেল রানা কারাগারে রয়েছেন।
জামিনে আছেন ১৭ জন। এরা হলেন, সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, রেফাত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেল, বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, মো, সারোয়ার কামাল, উত্তম কুমার রায়, অনিল দাস, শাহ আলম, আবুল হাসান, মোহাম্মদ আলী খান ও রাকিবুল হাসান।
উল্লেখ্য, হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলা গত ১ জুন রানা, রানার বাবা-মাসহ ৪২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর।
গত ৮ জুলাই ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে আদালত।
হত্যা মামলায় চার্জশিটে আসামি ৪১ জন এবং ইমারত নির্মান আইনের মামলায় চার্জশিটে ১৮ জন। তবে ইমারত নির্মাণ আইনের ১৮ জন আসামির মধ্যে ১৭ জনেই দণ্ডবিধির চার্জশিটে রয়েছেন। তাই দুই চার্জশিট মিলে মোট আসামি ৪২ জন।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা নামক ভবন ধসে ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়। সে হিসেবে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৬ জন। অন্যদিকে আহত হয় ১ হাজার ১৭০ জন। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অসনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে ৭৮ জন।

