পাঞ্জেরী ডেস্ক : সারাদেশে পৌর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ মধ্যে কেন্দ্র দখল ও জালভোটের অভিযোগে আসছে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে। আর এসব অভিযোগে অনেক প্রার্থী ভোটবর্জন করছেন।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:
নড়াইল: জেলার কালিয়া পৌরসভায় কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ভোট দেয়ার অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী ভোটবর্জন করেছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু (ধানের শীষ) এ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। কালিয়া পৌরসভায় ৭ জন মেয়র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
লক্ষ্মীপুর: জেলার রায়পুর পৌরসভায় দুর্নীতি ও ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি মেয়র প্রার্থী এবিএম জিলানী। বুধবার সোয়া ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন। এ সময় ১৩টি কেন্দ্রে বিএনপি থেকে নিয়োজিত এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইল: জেলার মধুপুর পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ওরফে সরকার শহীদ (ধানের শীষ) কেন্দ্র দখল ও অনিয়েমের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার আখাউড়া পৌরসভার স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান বাবুল (মোবাইল ফোন) ভোট কারচুরিপর অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের ডেকে এ ঘোষণা দেন। এছাড়া পৌনে ১২টার দিকে ওই পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজি মনতাজ মিয়া (ধানের শীষ) সাংবাদিকদের ডেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, একমাত্র ৮নং ওয়ার্ড ছাড়া সব কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরা সিল মেরে ব্যালটবাক্সে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন।
বরগুনা: প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণের অভিযোগ এনে বরগুনা সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ ভোট বর্জন করেছেন। বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জণের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী টাকা দিয়ে প্রশাসন কিনে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
বরিশাল: নলছিটি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের তিন কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। ভোট শুরু হওয়ার ২ ঘণ্টার মাথায় তারা ভোট ঘোষণা দেন। প্রার্থীরা হলেন- মোশারেফ হোসেন (পাঞ্জাবি), দোলোয়ার হোসেন (উটপাখি) এবং আলতাফ হোসেন তালুকদার (ডালিম)। এই তিন প্রার্থী অভিযোগ করেন- ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী জামাল খানের (প্রতীক টেবিল লাইট) পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঢুকতেই দেয়নি প্রিজাডিং অফিসাররা। উল্টো তাদের দেখিয়ে পিজাডিং অফিসাররা আরও জামাল খানের টেবিল লাইট প্রতীকের ব্যালটে সিল মেরে বক্সে ফেলেছেন।
এছাড়া, বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জালিস মাহমুদ মৃধা (প্রতীক হাতপাখা)। বেলা ১১টায় ইসলামী আন্দোলনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বর্জনের ঘোষণা দেন।
এদিকে, জেলার মুলাদী পৌরসভায় ভোট বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মনজুর হোসেন এবং ওয়ার্কাস পার্টির মেয়র সেলিম চৌকিদার। বেলা ১২টার দিকে ক্ষমাতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী শফিকুজ্জামান রুবেলের বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।
রাজবাড়ী: জেলার পাংশা পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী চাঁদ আলি খান নির্বাচন বর্জন করেছেন। বুধবার বেলা ১১টায় তিনি এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রেজাউল করিম রিংকু সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোটগ্রহণে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে চাঁদ আলি খান নির্বাচন বর্জন করেছেন।
সিরাজগঞ্জ: শাহজাদপুর পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ভিপি আব্দুর রহিম নির্বাচন বর্জন করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি এ ঘোষণা দেন। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী হালিমুল হক মিরুর বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ আনেন। পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার অপরাধে স্বতন্ত্র প্রার্থী ভিপি আব্দুর রহিমকে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

