ঢাকাSunday , 27 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পেট্রোল বোমায় শুরু, গ্রেনেডে শেষ

Link Copied!

cRImeনিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৫ সালের শুরুটা হয়েছিল পেট্রোল বোমায় আর শেষ হলো গ্রেনেড দিয়ে। জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনটি ছিল ১ জানুয়ারি। এই হরতাল শেষ পর্যন্ত অবরোধে গিয়ে ঠেকে। দেশব্যাপী শুরু হয় পেট্রোল বোমা আর ককটেল বিস্ফোরণ। পোড়া মানুষের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালগুলোর বাতাস। কখন কার গায়ে ককটেল, পেট্রোল বোমা এসে পড়ে সেই আতঙ্কে দিন কাটতে থাকে মানুষের। চলতে থাকে চোরাগোপ্তা হামলা। সেইসাথে চলতে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তার, মামলা।
একইসাথে ঘটতে থাকে গুমের ঘটনা। বোমা পড়তে থাকে পুলিশের উপরও। ১৭ জানুয়ারি রমনায় পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। এভাবে সারা দেশে যখন ককটেল আর পেট্রোল বোমায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিল তখন অসহায় হয়ে পড়ে পুলিশও। অধিকাংশ ঘটনাতেই দুর্বৃত্তরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। নিরুপায় হয়ে ২৬ জানুয়ারি পুলিশের পক্ষ থেকে নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ব্যাপকহারে ধরপাকড় চালাতে থাকে পুলিশ।
৬ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৮৫ জন নিহত হয়। এর মধ্যে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে মারা যায় ৫১ জন, ক্রসফায়ারে ১৮ জন, সংঘাত-সংঘর্ষে ১৩ জন ও অন্যান্য ঘটনায় ৩ জন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউমেন রাইটস ওয়াচের পরিসংখ্যানে বলা হয়, পেট্রোল বোমায় মারা যায় ৪১ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মারা যায় ১৭ জন।
পেট্রোল বোমা হামলা এবং গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপির ১৮ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং ৭ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয় বলে দাবি করা হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।
দীর্ঘ সময় পর স্বাভাবিক হয়ে আসে পরিস্থিতি। বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী পেট্রোল বোমা আর ককটেলের মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টির পর যখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছিল তখন নতুন চ্যালেঞ্জে পড়তে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
২৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানের কসাইবাড়ি এলাকা থেকে আর্জেস গ্রেনেড, ডেটোনেটর, পেট্রোল বোমা, ককটেল ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয় ৪ জেএমবি সদস্যকে। ৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ চত্বর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড।
এর আগে ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসনী দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয় দুই জন। এসব ঘটনায় বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় গোয়েন্দারা আটক করে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের। তাদের কছ থেকে উদ্ধার করা হয় বোমা, গ্রেনেড ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপাদান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাত ২টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ির ৬ তলার দুটি কক্ষ থেকে ১৬টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৬ রাউন্ড গুলি ও দুইটি পাইপ বোমা উদ্ধার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া বেশ কিছু সুইসাইডাল বেল্টও উদ্ধার করা হয়। এ সময় জেএমবির ৩ সদস্যসহ আটক করা হয় ৭ জনকে।
ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে তালাবদ্ধ ট্রাঙ্কও উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রাঙ্কের তালা কেটে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। একটি কক্ষ থেকে হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির জন্য একটি ছোট আকারের লেদ মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই লেদ মেশিন দিয়ে হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির জন্য টিউবওয়েলের পাইপ কাটা হতো।