ঢাকাSaturday , 26 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

না ফেরার দেশে ভাষা সৈনিক দোলা ভাই

Link Copied!

DOLAনাটোর  প্রতিনিধি : ‘আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে… বসন্তের বাতাস টুকুর মতো। সে যে চলে গেল বলে গেল না…  সে কোথায় গেল ফিরে এলো না। সত্যি আর ফিরে আসবে না। আমার নানুভাই, ভাষা সৈনিক দৌলতজ্জামান দোলা।’ নানার মৃত্যুর পর ফেসবুকে এমনটাই লিখেছেন ভাষা সৈনিক দৌলতজ্জামান দোলার নাতী সুকৃতি।
আর ফেসবুকের এই বার্তায় শেখর কুমার শ্যানাল ১৯৫৩ সালের একটি ঘটনা তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন, ‘১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি নাটোরে প্রথম ভাষা শহীদ দিবসের শোক মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দোলা ভাই। আমি সেই মিছিলে ছিলাম। এরেস্টও হয়েছিলেন সেই কারণে।’
পৃথিবীর মায়া ছেড়ে নাটোরের অন্যতম ভাষা সৈনিক এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দৌলতজ্জামান দোলা শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
দৌলতজ্জামান দোলা নাটোর শহরের গাড়িখানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুই ছেলে এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আজীবন নাটোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংগঠক ও অভিভাবক হিসেবেও কাজ করে গেছেন। জেলা খেলাঘর আসর ও উষা খেলাঘর আসরের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাতি ছিল তার। সবার কাছে তিনি দোলা ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই সংগঠকের মৃত্যুতে নাটোরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভাষা সৈনিক দৌলতজ্জামান দোলার মেয়ের জামাই কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাংগঠনিক সম্পাদক এম.  আসলাম লিটন জানান, গত সোমবার দুপুরে দৌলতজ্জামান হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নাটোরের ইতিহাসবিদ খালিদ-বিন-জালাল বাচ্চু জানান, ভাষা সৈনিক দৌলতজ্জামান দোলা ১৯৩৭ সালের ১১ এপ্রিল নাটোর শহরের গাড়িখানা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি মহারাজা জেএন বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এতে পাকিস্তানি পুলিশ তাকে আটক করে। পাঁচদিন তিনি কারাবরণ করেন। তিনি রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।