ঢাকাFriday , 25 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ হাজার ডলার চুক্তিতে কোকেনের চালান বাংলাদেশে

Link Copied!

kokenনিজস্ব প্রতিবেদক : কোকেনের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য সিলভিয়া শহর থেকে ব্রাজিলের সাওপাওয়ালোতে যান স্পেনের নাগরিক চিয়াস এসপেজো জুলিয়ান। ১০ হাজার মার্কিন (ইউএস) ডলারের চুক্তিতে সাওপাওয়ালো থেকে এক ব্যক্তির কোকেন ভরা লাগেজ বুঝে নেন তিনি। তবে চুক্তিটি হয় এর আগে সিলভিয়া শহরেই। বাংলাদেশে জুলিয়ানের দুইদিন অবস্থানের জন্য মতিঝিলের হোটেল প্যাসিফিকে সিঙ্গাপুর থেকে কক্ষ বুকিং দেয়া হয়। হোটেল থেকে কোকেনের চালনটি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল আরেক ব্যক্তির।
গত বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জুলিয়ান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জবানবন্দিতে কোকেনের চালান নিয়ে আসার কথা বললেও সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নাম-ঠিকানাসহ অনেক বিষয়ই গোপন রেখেছেন জুলিয়ান। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আগে ১১ দিন কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে কোকেনের আরো দু’টি বড় চালান নিয়ে ধরা পড়া পেরুর দুই নাগরিক আছেন সেখানেই। এই তিন কোকেন পাচারকারীকে একই সেলে রাখার কারণে নিজেদের যোগাযোগ হয়েছে। অন্যদের পরামর্শে জুলিয়ান কৌশলী জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে অ্যামিরেট এয়ারলাইন্সের ইকে-০৫৮৬ ফ্লাইটে করে স্পেনের নাগরিক জুলিয়ান দুবাই থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর বিমানবন্দরে তল্লাশি করে তার ব্যাগ থেকে কালো স্কচট্যাপে মোড়ানো চারটি কোকেন পাউডারের প্যাকেট জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এই কোকেনের ওজন তিন কোজি ৮০ গ্রাম। পরিমাণের হিসাবে এটিই বাংলাদেশে ধরা পড়া সবচেয়ে বড় কোকেনের চালান।
গত ৯ ডিসেম্বর আসামি জুলিয়ানকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনসির পরিদর্শক রাজু আহমেদ। গত রোববার শুনানি শেষে আদালত জুলিয়ানের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে পরিদর্শক রাজু আহমেদ জানান, গত মঙ্গলবার থেকে জুলিয়ানকে রিমান্ডে এনে দোভাষীর মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালান নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেন। পরে বুধবার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিটুর আদালত দোভাষীর মাধ্যমে তার বক্তব্য রেকর্ড করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলিয়ান জবানবন্দিতে চালান নিয়ে আসার বর্ণনা দিলেও পাচারকারীদের ব্যাপারে তথ্য গোপন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন- গত সেপ্টেম্বর মাসে স্পেনের সিলভিয়া শহরে হাটছিলেন তিনি। এসময় শ্যামলা বর্ণের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আলাপচারিতার সূত্রে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে তারা দুইজন চারবার দেখা করেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম জানেন না বলে দাবি করেন জুলিয়ান।
অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি ১০ হাজার ইউএস ডলারের বিনিময়ে কোকেনের চালান নিয়ে বাংলাদেশে আসার জন্য জুলিয়ানের সঙ্গে চুক্তি করেন। অর্থের লোভে জুলিয়ান ওই চুক্তিতে রাজি হন। ওই ব্যক্তি দুই হাজার ৩৫০ ইউরো দিলে তিনি বাসযোগে মাদ্রিদে যান। সেখান থেকে বিমানে করে ব্রাজিলের রেওডিজেনেরি শহরে যান জুলিয়ান। সেই শহর থেকে বাসে করে তিনি সাওপাওয়ালো শহরে যান। প্রথম ব্যক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে জুলিয়ান।
দ্বিতীয় ব্যক্তি তাকে একটি লাগেজ দেন, যার মধ্যে কোকেন ছিল। আর জুলিয়ানের লাগেজটি রেখে দেন তিনি। ওই ব্যক্তি তাকে ৩০০ ইউএস ডলার দিয়ে সাওপাওয়ালো থেকে বিদায় জানান। বাংলাদেশের হোটেল প্যাসিফিক হোটেলের ১২০/বি ডিলাক্স সিঙ্গেল কক্ষ বুকিং দেয়ার স্লিপ এবং একটি মোবাইল ফোনও দেয়া হয় জুলিয়ানকে।
তিনি জবানবন্দিতে দাবি করেন, বাংলাদেশের হোটেল থেকে এক ব্যক্তি কোকেনের চালানটি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী ওই ব্যক্তিরই জুলিয়ানের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। সাওপাওয়ালো থেকে বিমানে করে জুলিয়ান প্রথমে দুবাই আসেন। সেখানে প্রায় ১১ ঘণ্টা থেকে ঢাকায় আসেন।
ডিএনসির আরেকটি সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে দুই কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেন পাউডারসহ পেরুর নাগরিক জেইম বার্ডলেস গোমেজকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর এই আসামি কাশিমপুর কারাগারে আছেন। এর আগে ২০১৩ সালের ১১ জুন কাওরানবাজারের হোটেল লা ভিঞ্চি থেকে তিন কেজি কোকেনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল পেরুর আরেক নাগরিক হুয়ান পাবলো রাফায়েল জাগাজিটারকে। তিনিও আদালতে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর কাশিমপুর কারাগারে আছেন।
গত ৯ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে জুলিয়ানকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই আসামিকে কাশিমপুর কারাগারে অপর দুই বিদেশি কোকেন পাচারকারীর সঙ্গেই রাখা হয়।
ডিএনসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগের দুইজন কোকেন সরবরাহকারী এবং গ্রহিতার নাম-পরিচয় জানালেও জুলিয়ান এসব বিষয় চেপে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেছেন। এতে ধারণা করছি, আগের দুই কোকেন পাচারকারী তাকে পরামর্শ দিয়েছে। এমনিতে বিদেশিদের জিজ্ঞাসাবাদে কড়াকড়ি আছে; তার ওপর এমন ঘটনা ঘটলে তদন্ত করা কঠিন হবে। তাই আসামি রাখার ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া জরুরি।’
তদন্ত কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, ‘মাদ্রিদে থাকা অবস্থায়ই ঢাকার মতিঝিলের প্যাসিফিক হোটেলে জুলিয়ানের জন্য দুই দিনের বুকিং দেয়া হয়। ৭ ডিসেম্বর ও ৮ ডিসেম্বরের ওই বুকিং দেয়া হয় সিঙ্গুপুরের এগলাকো নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, ‘জুলিয়ান দুই ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার দেখা করলেও তাদের নাম জানেন না, এটা খুবই রহস্যজনক। এছাড়া যে চালানটি ছিল তার ব্যাপারেও কোনো কিছু জানেন না। জুলিয়ানের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যার সিমকার্ডটি ব্রাজিলের। তার টিকিট, হোটেলের কাগজ এবং বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চারটি দেশের সম্পৃক্ততায় চালানটি পাচার করা হচ্ছিল। সিঙ্গাপুরে কে বা কারা হোটেল বুকিং দিয়েছিল তাও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলিয়ান কোকেন পাচার করেছেন স্বীকার করলেও অনেক তথ্য গোপন করেছেন। আমরা তদন্ত করে সেগুলো বের করার চেষ্টা করবো।’