নিজস্ব প্রতিবেদক : মিরপুরের যে বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, গ্রেনেড, গুলিসহ জেএমবির তিন সদস্যকে আটক করা হয় সেই বাড়ির মালিক আবুল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
নিজেদের নিরাপদে রাখার জন্যই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাড়া নেয় জেএমবির জঙ্গি সদস্যরা। আর এতে ব্যবহার করা হয় জাল ভোটার কার্ড। তারপর সেখানে গড়ে তুলা হয় হ্যান্ডগ্রেনেডের বিশেষ কারখানা।
আবুল হোসেনের নাতি হাসনাত জানান, মিরপুর কো-অপারেটিভ মার্কেটের ইসরাত ফোম সার্ভিস নামে আবুল হোসেনের একটি দোকান রয়েছে। এ বছরের মার্চ মাসে তার ছয় তলা বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
তিন মাসে আগে দুইজন ছাত্র ও দুইজন চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে ৯ হাজার টাকায় মেস ভাড়া নেন। এর আগে তারা সারেং বাড়ি মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভাড়া নেয়ার সময় তারা জানিয়েছিলেন, তাদের বাড়ি ফরিদপুরে। তাদের বিস্তারিত তথ্য ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালের এই অভিযানের পর তারা জানতে পারেন যে ভাড়াটিয়ার দেয়া সকল তথ্য মিথ্যা ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিও ছিল জাল।
শাহ আলী থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, গত ২/৩ মাস আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহের জন্য ডিএমপির ফর্ম বিতরণ করা হয়। এবং অধিকাংশই তাদের ফর্ম পূরণ করে জমা দিযেছেন।
একই কথা বলেন ওই এলাকার বাসিন্দা আসাদও। তিনিও স্বীকার করেন, তাদের এলাকায় ডিএমপির ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে। তবে সেই ফরম পূরণ করে জমা দিরেও তা যাচাই বাচাই করা হয়নি। আর এ সুযোগে অনেকেই ভুয়া তথ্য দিয়েও ফরম পূরণ করতে পারেন।
এদিকে বুধবার রাত ২টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত শাহ আলীর এ ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর ভবনে অভিযান চালিয়ে ১৬টি হোমমেইড হ্যান্ডগ্রেনেড, দুইটি পাইপ বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং প্রায় দুইশ বোমা তৈরির উপাদান জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত চার মাস ধরেই বিস্ফোরক ও হামলার সঙ্গে জড়িত জেএমবির সদস্যদের ধরতে ব্যাপকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ধরনের বোমা উদ্ধার হয়েছে। বানানোর ব্যাপারে তথ্যও পাওয়া যায়। তবে কারিগর বা কারখানার সন্ধান মিলছিল না। এবার তা মিললো। গত চার মাসে বেশ কয়েকটি ঘটনায় ব্যবহৃত বোমা তৈরি করেছে এই চক্রটি। তারা এই আস্তানা ছাড়া আর কোথাও বোমা তৈরি করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

