নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে অ্যাম্বুলেন্স ১০টি অনুদান হিসেবে দিয়েছে নিটল-টাটা। অ্যাম্বুলেন্সের নিয়মিত মেইনটেন্যান্সের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে একটা ফান্ড তৈরি এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলো সঠিক ও যত্ন সহকারে ব্যবহার করার পরামর্শও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার গণভবনে স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘খাদ্য, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, আবাসন ও শিক্ষাসহ মানুষের সব মৌলিক চাহিদা। মানুষের এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথায় বলে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। একটি জাতিকে উন্নত করতে সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট (আবদুল মতলুব) যখন স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা করছেন তখন অন্য ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে আসবেন বলেও আমি আশা করি।’
মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে এখন। প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী ও ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’
অ্যাম্বুলেন্স অনুদানের জন্য নিটল-টাটার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে যেখানে এসব অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে সেখানকার মানুষ এর থেকে উপকৃত হবে।’ যেসব জায়গায় সড়ক পথে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারে না সেসব এলাকার জন্য জলপথের অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে যেসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয় সেগুলো হলো- শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের জন্যে একটি, পটুয়াখালী, শেরপুর ও দিনাজপুর সদর হাসপাতালের জন্য একটি করে তিনটি, গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে একটি। এছাড়া বাগেরহাটের মংলা, রংপুরের পীরগঞ্জ, বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি, খাগড়াছড়ির রামগড় ও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য একটি করে মোট পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়।
অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ, ভারতের টাটা মটরস লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল বিসনেস জনি ওমেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।

