অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নতুন অনুমোদিত অষ্টম পে-স্কেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মর্যাদার অবনমন করা হয়েছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে হঠকারীর উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানান নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে বৈষম্য দূর করে সর্বোচ্চ পদ নির্বাহী পরিচালককে গ্রেড-১ এবং প্রবেশ পদ সহকারী পরিচালককে অষ্টম গ্রেড করার দাবি জানিয়েছেন তারা। কারণ নতুন পে-স্কেলে তাদের সম্মানের অবনমন হয়েছে বলে দাবি।
মঙ্গলবার এসব দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।
এ দাবি আদায়ের জন্য বুধবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে কাউন্সিল। আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে ক্যালোব্যাজ ধারণ করবে কর্মকর্তারা। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি পালন করার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ ডিসেম্বর ঘোষিত গেজেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশ ব্যাংককে কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সমমর্যাদার করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাকে খাটো করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় পে-স্কেলে কোনো প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার বিপরীতে একজন করে গ্রেড-১ কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ হাজার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা রয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ প্রমোশনাল পদ নির্বাহী পরিচালককে গ্রেড-২ করা হয়েছে। আগে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা বিসিএস ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মতো প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেতো। সেই সঙ্গে সহকারী পরিচালক পদকে নবম গ্রেড করা হয়েছে। এটি হঠকারী সিদ্ধান্ত।’
কাউন্সিলের সভাপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘বৈষম্য দূর করতে আমাদের তিন দফা দাবি হচ্ছে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে গেজেটে আলাদাভাবে প্রদর্শন করতে হবে। নির্বাহী পরিচালক পদকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানকারী সহকারী পরিচালক প্রবেশ পদ জাতীয় স্কেলে অষ্টম গ্রেডে নির্ধারণ করতে হবে।’
ছিদ্দিকুর রহমান আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দাবি স্বতন্ত্র পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করে উল্টো আমাদের অবনমন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে মেধাবীরা আসবে না। আস্তে আস্তে মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা মোকাবেলা করা তখন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কেলে বৈষম্য দূর করে স্বতন্ত্র পে-স্কেল কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

