ঢাকাWednesday , 23 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাকিস্তানের চেয়ে সব সূচকেই এগিয়ে বাংলাদেশ

Link Copied!

hasina1চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : পৃথিবীতে অর্থনীতিসহ সব সূচকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলা পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি উন্নয়নের কিছু সূচকে প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আর পাকিস্তান সব সূচকেই বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ শেষে কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত চার দশকে অর্থনৈতিকসহ উন্নতির সব সূচকে বাংলাদেশ পৃথিবীর পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি দেশ। দেশের সব সূচকেই দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে, এমনকি প্রতিবেশী ভারতের চেয়েও আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছি। আর সব সূচকেই পাকিস্তান আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ ইউএস ডলার। ৫ কোটি মানুষ এখন মধ্য আয়ের ঘরে উন্নতি হয়েছে। দারিদ্রের হার শতকরা ২২ ভাগে নেমে এসেছে। আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভ, কর্মসংস্থান সবই বেড়েছে। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭০ বছর ৭ মাসে উন্নতি হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে বিশ্ব দরবারেও প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতি সংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ, আইইউপি পুরুস্কারসহ অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদে নৌবাহিনীর উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন মনে করেছিলেন। সমুদ্র সীমায় দেশকে শত্রুর হাত থেকে  মোকাবেলার জন্য একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন এবং নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। সেই লক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী মাসে নৌবাহিনীর বহরে ‘প্রত্যয়’ ও ‘স্বাধীনতা’ নামে দুটি যুদ্ধ জাহাজ যুক্ত হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমুদ্র পথে বাণিজ্য ছাড়াও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, আহরণ এবং বাণিজ্যে ব্যবহার করা নৌবাহিনীর দায়িত্ব। স্বাধীনতা যুদ্ধেও নৌবাহিনীর গৌরবের ইতিহাস রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও এ বাহিনী মর্যাদার জায়গা করে নিয়েছে।’ এসময় সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দেশের সেবায় নিয়োজিদ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এরআগে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) লুৎফুর রহমান জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনীর অনুষ্ঠান থেকে দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালনাধীন চিটাগং ড্রাই ডক ইয়ার্ডকে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে নৌবাহিনীর ঈশা ঘাঁটিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে এসে পৌঁছান। সেখানে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির (বিএনএ) প্রশিক্ষণার্থী ক্যাডেটদের সনদপত্র প্রদান ও শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই ব্যাচের মোট ৭৭ জন কমিশনারপ্রাপ্ত ক্যাডেটকে সনদপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এদের মধ্যে ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২১০৪ ব্যাচের ২৪ জন আর মিড শিপমেন্ট অফিসার ২০১৫ ব্যাচের ৫৩ জন সহ মোট ৭৭ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অডমিরাল এম সৈয়দ হাবিব। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিদায়ী ক্যাডেটদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
নেভাল একাডেমির অনুষ্ঠান শেষে দুপুরের খাবার ও যোহরের নামাজ আদায় শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পার্শ্ববর্তী চিটাগং ড্রাই ডক ইয়ার্ড-এ এসে পৌঁছবেন। সেখানে বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ইয়ার্ডটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে ড্রাই ডক ইয়ার্ড থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে গত চারদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।