ঢাকাWednesday , 23 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুক্তিযু্দ্ধে ভয়াবহ দুর্দশা স্বচক্ষে দেখেছি : লেভিন লেয়ার

Link Copied!

labin-leyerপাঞ্জেরী ডেস্ক : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু মার্কিন সাংবাদিক লেভিন লেয়ার বলেছেন, একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। আর সেই স্মৃতি তার মানসপটে ভেসে উঠলেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ভবনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে তার কর্ম অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
লেভিন লেয়ার বলেন, ‘যুদ্ধকালে ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের মানুষ যে অবর্ণনীয় কষ্ট করেছে তা স্বচক্ষে দেখেছি। দেখেছি তার ভয়াবহতা। ওই সময় সেখানে সাংবাদিকতার কাজ করেছি। এ কারণে অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি।’
‘স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের মানুষের অনেক রক্ত ঝরেছে। এর জন্য আমি নিজেও অনুতপ্ত বোধ করি। এসব স্মৃতি বর্ণনা করতে গেলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি’, যোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে লেভিন লেয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও ক্যাথেরিন মাসুদের সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ নামক একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন। যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি।
বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের হেড অব চ্যান্সারি চৌধুরী সুলতানা পারভিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন কনস্যুলেট পরিবারের সদস্যরা। এর পর মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্য দেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি। তার আমন্ত্রণে এবারের প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া ও প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে। দলমত নির্বিশেষে নিউইয়র্কের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে বিজয়ের আনন্দে শামিল হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা বিশ্ব নেতৃবৃন্দদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলেই তিনি বারবার পুরস্কৃত হচ্ছেন। এ কারণেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি। ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই অপশক্তি উৎখাতে প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তা হলেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।  পদ্মাসেতুর নির্মাণ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেছে। কাজ শেষ হলে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
শামীম আহসান এনডিসি জানান, নিউইয়র্কের পাশের অঙ্গরাজ্য নিউ জার্সির প্যাটারসন শহরের সিটি মেয়র হোজে টোয়েসের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিটি হলের সামনে সাতদিন ধরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়েছে। এ উদ্যোগের জন্য তিনি হোজে টোয়েসকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পৃথক দু’গ্রুপের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুল বাতেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী নাঈমা খান ও শহীদ পরিবারের সন্তান সাংবাদিক ফাহিম রেজা নুর।
নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটি মেয়র হোজে টোয়েসের বাণী পড়ে শোনান স্থানীয় কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট দেওয়ান বজলু। আশরাফুল হাসান বুলবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শিল্পী কাদেরি কিবরিয়া ও শহীদ হাসান।
অন্য শিল্পীদের মধ্যে গান করেন শফি চৌধুরী, শাহ মাহবুব, কৌশলী ইমা, সবিতা দাস, রওশন হাসান ও ডা. শাহনাজ আলম। দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন শামীম আহসান, পেন্ডোরা চৌধুরী, শাহেদুল ইসলাম, তাসনিম এ জিন্নাত, চৌধুরী সুলতানা পারভিন, সৈয়দা জেসমিন সুলতানা মিল্কী, চন্দন সাহা, সর্বানী সাহা, শেখ তারেক আলী, মনির হোসেন, শামীমা সুলতানা তম্বী, রফিকুল ইসলাম, কবির হোসেন, আসিব আহমেদ ও সোহেল গাজী।
কোরাসে শিল্পীদের সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ পারফর্মিং আর্টসের কর্ণধার ও সঙ্গীতশিল্পী সেলিমা আশরাফ। শিল্পীদের তবলায় সঙ্গত করেন পিনাক গোস্বামী ও কিবোর্ডে সহযোগিতা করেন মাসুদুর রহমান।
এ ছাড়া কবিতা আবৃত্তি করেন শামীমা সুলতানা তন্বী, সোহেল গাজী ও খুদে আবৃত্তিশিল্পী তাহমিদ আল হাসান। নৃত্য পরিবেশন করেন বাফার শিল্পী নিশু ও মৃদুলা।