ঢাকাSunday , 20 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সড়ক দুর্ঘটনা : ঠেকানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল

Link Copied!

Accidentনিজস্ব প্রতিবেদক : আইন করেও দূর করা যাচ্ছে জাতীয় মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, পা-চালিত রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন। আর এ কারণেই বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। অপ্রত্যাশিত হলেও সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে!
এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনার অন্য কারণগুলো হলো, সোজা রাস্তা ও ডিভাইডার না থাকা, পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ভালো সড়কের অভাব, চালকের অদক্ষতা, ড্রাইভিং পেশার অনুৎকর্ষ, পুরাতন ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা, বিকল্প যানবাহনের সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকা, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের অভাব। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সারা দেশে সাড়ে ১৪ লাখ নিবন্ধিত সড়কযানের (বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি ইত্যাদি) বিপরীতে বৈধ চালকের সংখ্যা মাত্র ৯ লাখ। বাকি সাড়ে ৫ লাখ চালকের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এই অবৈধ চালকদের মধ্যে লক্ষাধিক চালক জাল লাইসেন্সধারী। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সড়ক, মহাসড়ক ও প্রত্যন্ত এলাকায় চলাচলরত যানবাহনের একটি বড় অংশই যান্ত্রিক ও অবকাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আর এসব কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা মহামারিতে রূপ নিয়েছে।
এদিকে সরকার কঠোর অবস্থানের পরও মহাসড়কের ভয়ংকর যান হিসেবে চিহ্নিত নসিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ঠেলাগাড়ি চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। এসব যানবাহনের কারনে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।
গত মঙ্গলবার দেশের কয়েকটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ জন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ২০ জন। এ ছাড়া গত শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ২৪ জন মারা গেছে। এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ ওইসব যানবাহন।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো যানবাহনগুলো সরিয়ে নিতে সরকার একটি পদক্ষেপ নিয়েছিল বছরখানেক আগে। যানবাহনগুলো ২৫ বছরের পুরোনো। কিন্তু তা সরকার বাস্তবায়ন করেছে কি না তা আমরা দেখিনি। কিন্তু ঢাকার বাইরে অসংখ্য পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে যেগুলো দুর্ঘটনা ঘটানোর অন্যতম কারণ বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।
অপরদিকে মহাসড়কের রাস্তা হতে হবে যুগোপযোগী, টেকসই, ভালো বা উন্নতমানের নয়। অধিকাংশ রাস্তাঘাটগুলো জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা হয়। তৈরি করার ছয়মাসের মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে এমন অনেক রাস্তার নজির আছে।
আবার দেশের বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী থাকে চালকের অদক্ষতা। দুর্ঘটনার পরও এসব চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আবার এও সত্য যে, অধিকাংশ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দেওয়ার মতো অবকাঠামো সরকারের নেই। এটি সরকারের ব্যর্থতা।
ড্রাইভিং পেশাকে এখনো নিম্নমানের পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে, বাস ও ট্রাক ড্রাইভাররা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই পরিশ্রম করেন। দীর্ঘ সময় এরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথেঘাটে থাকতে তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। এরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পেশায় মনোনিবেশ করতে পারে না তারা। এটিও দুর্ঘটনার আরেক বড় কারণ বলে মনে করেছেন অনেকে।
বাংলাদেশে এখনও অনেক কিছুই পুরাতন পদ্ধতি অনুসারে চলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা একটা। এই ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে গতি পরিমাপক, ওজন পরিমাপক, জিপিএস প্রযুক্তি ইত্যাদির অন্তর্ভুক্তি।
অনেক জেলা ও উপজেলা আছে, যেগুলোকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা যায়নি। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলপথ ও নৌপথের প্রচলন ও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। কারণ একটি নির্দিষ্ট পথে যখন যাত্রীচাপ বেশি হবে তখন স্বাভাবিকভাবেই অসুবিধা বাড়বে। রেল যোগাযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমবে। আর তাতে হয়তো দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে।
দিন যতই যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘ হচ্ছে সড়কে লাশের মিছিল। চলতি বছরের শুধু দুই মাসেই প্রায় ৩শ’ মানুষ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়’ থেকে ঝুকিপূর্ণ ১৪৪টি ব্লাক স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্পট সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের অধীনে ১৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১২৬টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করে এবং নতুন করে ১৮টি বাঁক প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় পথচারীদের ক্রসিংয়ের উন্নয়ন, মহাসড়কগুলোকে নিরাপদ করতে ইন্টারসেকশন উন্নয়ন, বাঁক সরলীকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সংস্কার, সিগন্যালিং, রোড মার্কিং স্থাপন, সাইন সিগন্যাল, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের মধ্যে এ কাজ সমাপ্ত হবে বলে মন্ত্রী জানান।
বিআরটিএ এর তথ্যমতে, রাজধানীতে মোটরসাইকেল বাদে যানবাহন রয়েছে ৫ লাখের বেশি। বিশাল সংখ্যক এই পরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য মাত্র ১ জন উপ-পরিচালক ১১ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। ফলে যথাযথভাবে ফিটনেস যাচাই করা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করতে। শুধু শিশু নয়, সবাইকে সচেতন হতে হবে। সকলের আন্তরিক সচেতনায় সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলার পারমিট নেই। মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ করার দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের।
শাজাহান খান বলেন, সড়ক পথ এখনও প্রধান বাহন। শ্রমিক, মালিক, সরকার, পথচারী, যাত্রী সবাইকে সড়ক দুর্ঘটনারোধে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে আগামী ৩ বছরে সড়ক পথে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।
এদিকে বেসরকারি সংগঠন গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশ (জিসিবি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। জিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬ হাজার ৯৯১ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৭০ হাজার ৯০৮ মানুষ। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এই ১০ বছরে সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪৪ হাজার ৭৯টি। তবে সরকারি হিসাব বলছে, সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের পরিমাণ দিন দিন কমছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র এক বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে ৩২ শতাংশ পথচারী। এই অনুমিত হিসাব ২০১২ সালের।
তারা বলেছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) এক দশমিক ৬ শতাংশের সমান। বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে। তবে, এই তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা দাবি করেন, ডব্লিউএইচও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও পুলিশের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করে। তাদের নিজস্ব কোনো গবেষকদল মাঠপর্যায়ে যায় না।