আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চার বছর ধরে লিবিয়াতে চলছে যুদ্ধ বিগ্রহ এবং পারস্পরিক দলাদলি। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের হুমকি। এই অবস্থায় লিবিয়াতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে দরকার তাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য। সেই আশাতেই লিবিয়ার সংঘাতরত বিরোধী কর্তৃপক্ষ মিলে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের আশায় বৃহস্পতিবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়াতে ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহে সেখানকার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লেগে আছে সংঘাত। বেশ কিছু সশস্ত্র বাহিনীর উত্থানের মধ্য দিয়ে আবির্ভাব হয় গৃহযুদ্ধের, এমনকি অনেক বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদেরকেও লিবিয়া থেকে বের করে দেয়া হয়।
লিবিয়ার বিদ্রোহীরা মূলত দুই দলে বিভক্ত : একদল জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেস নামে সরকার গঠন করেছে রাজধানী ত্রিপোলিতে, অন্যদল লিবিয়ার পূর্ব দিকের তাবারুক শহরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ।
তবে এই দীর্ঘ প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তির কারণে দুই বিরোধী সরকার মিলে হয়তো একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গড়ে উঠবে এবং সেই সাথে অবসান হবে হানাহানির।
তবে অনেক সমালোচকের মতে, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লিবিয়ার অনেক সশস্ত্র দল এর সঙ্গে একমত হবে না। কারণ, তারা মনে করে এই চুক্তি পক্ষপাতদুষ্ট এবং এতে তাদের কোনো লাভ নেই।
চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন মেজোয়ার বলেছেন, ‘নতুন লিবিয়া গঠনের জন্য এটা সূচনা মাত্র।’ জাতিসংঘ দূত মার্টিন কোবলার বলছেন, ‘অনুষ্ঠানে লিবিয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক এবং অনেক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ প্রাণপণে চেষ্টা করছে যাতে লিবিয়ার এই সংঘাত থামে।’
কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল গোমাতি বলেছেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে, শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনো অনেক দূরের যাত্রা।’

