অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু। বাংলাদেশের প্রশংসা করতে গিয়ে আজ তিনি বলছেন, বাংলাদেশ ‘চড়চড় করে’ এগিয়ে যাচ্ছে.. বাংলাদেশের খুবই সম্ভাবনা আছে.. অনেক দ্রুত বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুন এশিয়ান টাইগার বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি; যা এই অর্থনীতিবিদের রোববারের বক্তব্যেও এসেছিল।
গত মঙ্গলবার ছিল কৌশিক বসুর ঢাকা সফরের শেষ দিন। সর্বশেষ ২২ বছর আগে ঢাকা এসেছিলেন বসু। সেবারের ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রোববার তিনি বলেছিলেন, আগে যখন বাংলাদেশে এসেছিলাম তখন, ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা গেছে। গতকাল রাত ১০টার সময়েও ট্রাফিক জ্যামে পড়েছি। এতে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টিকে অত্যন্ত সুখবর বলেই মনে করছেন কৌশিক বসু। তিনি বলেন, এটা আমরা সবাই জানি, ইট ইজ নট গুড হিস্ট্রি। এখন যেটা হচ্ছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, অনেক সময় ব্যাড হিস্ট্রি থেকে গুড নিউজ সৃষ্টি হয়।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশে এসে বিশ্বব্যাংকের কোনো অর্থনীতিবিদ বাংলায় বক্তব্য রাখছেন।
কৌশিক বসু সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯২ সালে যখন বাংলাদেশে এসেছিলাম তখন এ দেশের জিডিপিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ। এখন শতাংশের হিসেবে জডিপি প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য কমেছে।
আশার চেয়েও বেশি উন্নতি
সংবাদ সম্মেলনে নিজস্ব একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৭/৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। কল্পনাও করা যায় না সেই রিজার্ভ এখন ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে এসে যতটা না আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি উন্নতি করেছে এ দেশটি।
বিশ্বব্যাংকের এ অর্থনীতিবিদের মতে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৬ শতাংশ। আর আগামী অর্থবছরে হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। তিনি বলেন, এখানকার মানুষগুলো বুঝতে পারছেন কি না জানিনা ২০০৮ সাল থেকে পৃথিবীতে একটা বিশ্বমন্দা চলছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর খুব কম দেশেই রয়েছে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। পৃথিবীতে ৫/১০ টি দেশ রয়েছে যারা এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে, চীনে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে চলে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ঢাকার বাইরে গিয়ে ঘুরে দেখালাম কীভাবে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।
কলকাতায় বড় হওয়া কৌশিক এদেশের মানুষের উদ্দেশে বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ এশিয়ার ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে হংকং-সিঙ্গাপুরকেও ‘এশিয়ার টাইগার’ বলা হতো না। কিন্তু তারা এখন সেই জায়গায় চলে গেছে। বাংলাদেশের খুবই সম্ভাবনা আছে। অনেক দ্রুত বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
পদ্মা সেতু বিরাট সুখবর
সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক বসু বলেন, পদ্মা সেতু, যেটা সরকার এখন নিজস্ব অর্থে নির্মাণ করছে, এইতো কাল না পরশু প্রধানমন্ত্রী এর মূল কাজ উদ্বোধন করলেন। সেটা একটা বিরাট সুখবর। এ কাজকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই।
বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন অংশীদার সৃষ্টি হয়েছে। অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংক একসঙ্গে কাজ করবে। আমি সবসময় আশাবাদী মানুষ নই। আমি জানি, বাংলাদেশের অনেক অর্থনীতিবিদ-বিশ্লেষকরাও অর্থনীতির সমালোচনা করে থাকেন। সেটা ভালো। কিন্তু এখন বাংলাদেশ যে জায়গায় চলে এসেছে তাতে সবাইকে বিশ্বাস রাখতে হবে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসে অর্থনীতি শেখা এই বাঙালির মূল্যায়ন, ১০ বছর আগে যে বাংলাদেশ ছিল তা এখন নেই। বাংলাদেশের দুর্বল দিক কোনটি- এ প্রশ্নে কৌশিক বসু বলেন, অবকাঠামো এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক রাস্তাঘাট হচ্ছে, এদিকে আরো মনোযোগ দিতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনেও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

