ঢাকাSaturday , 12 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রাহক ঠকিয়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ

Link Copied!

takaনারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : গ্রাহকদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লি. নামে একটি কোম্পানি। চড়া সুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহের পর উধাও হয়ে যায় এ কোম্পানির প্রধান কার্যালয়টি।
দৃশ্যমান এবং নাম-প্যাডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা দেখিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। সোনারগাঁয়ের শাহাবুদ্দিন শপিং কমপ্লেক্সের ৪র্থ তলায় এ কোম্পানিটির অফিসে এখন ঝুলছে তালা। শুধু গ্রাহকই নয় এতে প্রতারিত হয়েছে ওই কোম্পানির প্রায় ৩৫ কর্মচারীও। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী ও কমপক্ষে ৬৮৭ জন সঞ্চয়কারী এখন দিশেহারা।
এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে আড়াই হাজার টাকা লভ্যাংশ (সুদ) দেয়ার প্রলোভন দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠাটির মোহনীয় বিজ্ঞাপন ও ঝকঝকে এবং বিলাসবহুল অফিস দেখে যারা আমানত রেখেছেন, তারা এখন শুধু হায় হায় করছেন। আমানতকারীরা অফিসে অফিসে ধরনা দিচ্ছেন নিজেদের পাওনা আদায়ের জন্য। কিন্তু সেখানেও চেয়ারম্যান এমডি কিংবা পরিচালকদের কেউ নেই। ফলে হতাশ হয়ে পথে পথে ঘুরছেন হাজারো গ্রাহক ও কর্মচারীরা।
জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লি. এর ব্যবস্থাপক ছিলেন এম, ইসমাইল। তিনি নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রথমে তিনি জানান এই কোম্পানিতে যারা চাকরি করবে তাদের প্রত্যেককে জামানত হিসাবে ২০ হাজার টাকা করে জমা দিয়ে নিয়োগ নিতে হবে। এভাবে প্রাথমিকভাবে ম্যানেজার হিসেবে মোস্তাক আহম্মেদ ও প্রধান ক্যাশিয়ার হিসেবে ঝুমা আক্তারকে নিয়োগ দেন। এরপর একে একে ৩৫ কর্মচারীকে নিয়োগ দেন। যারা প্রতিদিন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় গ্রহণ করতেন। আবার যাদের ঋণ দিতেন তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা আদায় করতেন।
বেকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, দারিদ্র ও দুস্থ জনগণকে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে চাকরির সুযোগ করে দেয়াই এ কোম্পানির মূল লক্ষ্য এমন স্লোগান দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। কোম্পানিতে ৬৮৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় কয়েক লাখ টাকা আদায় করেন।
এম, ইসমাইলের বিরুদ্ধে গ্রাহক ও তার অধীনস্থ কর্মচারীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও ব্যাংকের ভুয়া চেক দিয়ে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে।
জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লি. এর গ্রাহক আরিফ বলেন,‘আমাদের এই কোম্পানিতে কর্মরত কর্মচারীরা টাকা সঞ্চয় করলে এক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে যাবে এমন প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।  আর এ কারণে আমরা এ  প্রতারণার ফাঁদে পা দেই।’
এ ঘটনায় শুধুমাত্র আরিফই নন তার মতো শত শত গ্রাহক গতকাল শুক্রবার সকালে সোনারগাঁ থানায় এসে ওই কোম্পানির পরিচালক এম ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লি. এর ম্যানেজার মোস্তাক আহম্মেদ বলেন,‘এ কোম্পানিতে চাকরি নেয়ার সময় আমাদের ৩৫ স্টাফের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে জামানত নিয়েছিল। এছাড়াও আমাদের অফিসের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৪টি দামি মোবাইল সেট নিয়ে ছিল যা কখনোই ফেরত দেয়া হয়নি।’
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক সোয়েব খান জানান, জনতা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লি. এর কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে ওই কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’