ঢাকাFriday , 11 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪০ বছরে হারিয়ে গেছে ২০ হাজার কি.মি. নৌপথ

Link Copied!

river-Wayনিজস্ব প্রতিবেদক : বিগত ৪০ বছরে হারিয়ে গেছে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ। বর্তমানে সচল মাত্র ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথও শঙ্কামুক্ত নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
এদিকে, বয়সের ভারে ন্যূব্জ হয়ে পড়েছে ৪০ বছরের পুরনো সাতটি ড্রেজার। অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত সাতটি ড্রেজারের মধ্যে দু’টি (ডেল্টা-১ ও ডেল্টা-২) ১৯৭২ এবং বাকি পাঁচটি ১৯৭৫ সালে সংগৃহীত। অকেজো এসব ড্রেজারের ফলে গতি হারা হয়ে পড়েছে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা কার্যক্রমও।
কিন্তু ড্রেজিং বিভাগের সংশ্লিস্টরা বলছেন, নদীর নাব্যতা উদ্ধার করা সম্ভব না হলে সচল ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে নৌযান চলাচল।
৪০ বছরের পুরনো ড্রেজারগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হওয়ায় নদীর মাটি খনন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। আর আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় যন্ত্রগুলো মেরামতের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে।
নদীপথের নাব্যতা সংরক্ষণের জন্য প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে ১৪টি ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতটি এবং অন্য প্রাইভেট সেক্টর থেকে সাতটি ড্রেজারের জন্য গত বছর ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। চলতি বছরে ৫৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এভাবেই নদীর নাব্য রক্ষার জন্য ড্রেজিং করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ফেরি রোড দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও মাওয়া’ নৌ-চ্যানেল সচল রাখার জন্য প্রতি বছর ৯০ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা প্রয়োজন। সেখানে এসব লক্কড়-ঝক্কড় ড্রেজার দিয়ে মাত্র ২০ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৭০ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করতে বিআইডব্লিউটিএকে বেসরকারি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার ভাড়া নিয়ে নদীর নাব্য রক্ষা করে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগ দাবি করেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রাখার স্বার্থে নদ-নদী খননের জন্য ৫৩টি নদী খনন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। সরকার ড্রেজিংসহ পানিসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বরোপ করায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নতুন নতুন ড্রেজার সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যেসব ড্রেজার আছে তা দিয়ে সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ আর্থিক সুরক্ষা কাজে ব্যবহার করায় এসব ড্রেজার অভ্যন্তরীণ নৌপথের নব্য রক্ষায় কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, চাহিদা না থাকায় বেসরকারি তিনটি ড্রেজিং কোম্পানির (আব্দুল মোমেন লিমিটেড, বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেড ও বেসিক ড্রেজিং কোম্পানি) চারটি ড্রেজারের মধ্যে বেসিক ড্রেজিং কোম্পানির ড্রেজার দুটি ড্রেজিং অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ড্রেজিং ও পানিখাতের ওপর গুরুত্বারোপ করায় এবং ড্রেজিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে নতুন অনেকগুলো ড্রেজিং কোম্পানি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেডের একটি ড্রেজার ছিল, তারা নতুন করে আরও একটি সংগ্রহ করেছে। তাদের একটি ড্রেজার নির্মাণাধীন আছে বলেও সূত্র জানায়।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরকার দেশে প্রথম সাতটি ড্রেজার ক্রয় করে। এরপর কোনো সরকারই ড্রেজিংয়ের ওপর জোর দেয় নাই। পরবর্তীতে সেই আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসে ড্রেজিং কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়। ইতোমধ্যে তিনটি ড্রেজার আমরা ক্রয় করেছি।’ আরও ১০ ড্রেজার কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের নৌপথগুলো সংরক্ষণ করাসহ নদ-নদী পুনরুদ্ধার করতে হলে ড্রেজার সংগ্রহ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ড্রেজিং ও ড্রেজারের গুরুত্ব বিবেচনা করে বর্তমান সরকার ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৩টি নদী খনন প্রকল্প আমরা গ্রহণ করেছি।’ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর নাব্যতা সঙ্কট থাকবে না বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।