নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিল মামলার রায় দেয়া হবে আগামী ০৬ জানুয়ারি।
আপিলের যুক্তি খণ্ডন শেষ করে মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায়ের এ ঘোষণা দেন। এর আগে গতকাল এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
রায়ের তারিখ নির্ধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির সাজা বহাল না থাকলে দেশ ও জাতি হতাশ হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে চারটি হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণের দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, সেগুলোতে সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’
এদিকে একাত্তরে নিজামীর দল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে বলেই একজন কর্মী হিসেবে তিনিও (নিজামী) রাজনৈতিক বিশ্বাসে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ন্যায় বিচার হলে নিজামী খালাস পাবেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরের আনা অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে নিজামীর বয়স এবং স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত লঘুদণ্ড দেবেন বলে আমরা আশা করছি।’
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির দণ্ড দেন। রায়ে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করার অপরাধে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন নিজামী। মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে এ আপিল করা হয়।

