ঢাকাTuesday , 8 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাবলিক ইস্যু-মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধি সংশোধন হচ্ছে

Link Copied!

BSECনিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পাবলিক ইস্যু রুলস ২০০৬ পরিবর্তন করে নতুনভাবে বিধিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে  মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১ সংশোধন করতে যাচ্ছে বিএসইসি।
এ সংক্রান্ত খসড়া সোমবার বিএসইসির ৫৬১তম কমিশন সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জনমত জরিপের জন্য কমিশন এ খসড়া  দৈনিক পত্রিকা ও বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস ২০১৫ খসড়ায় বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারের অভিহিত মূল্যে আইপিও আবেদন করতে চাইবে তাদের জন্য ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি এবং যেসব প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম নিয়ে আবেদন করতে চাইবে তাদের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ১২ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিডিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তার মধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং পোর্টফলিও ম্যানেজার, অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক ডিলার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজারস, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, দেশের পুঁজিবাজারে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের পোর্টফোলিও রয়েছে, স্বীকৃত পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ড ফান্ড এবং বিএসইসির অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। বিডিংয়ে প্রত্যেক ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোটা সংরক্ষণ করা হবে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতির জন্য আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক কোম্পানিকে রোড শো আয়োজন করতে হবে। রোড শো-তে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করবে তাদের মতামত এবং পর্যবেক্ষণসহ ইস্যুয়ার কোম্পানি প্রসপেক্টাসের কপি এবং আবেদনপত্র বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করতে হবে।
এ ছাড়া প্রসপেক্টাসে ইস্যুয়ারের সব ধরনের তথ্য থাকতে হবে এবং শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণও উল্লেখ থাকতে হবে। তবে কত মূল্যে এবং কী পরিমাণ শেয়ার ইস্যু করা হবে তা উল্লেখ করা যাবে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা জন্য নির্ধারিত কোটার শেয়ার সর্বনিম্ন যে দরে বিডিং শেষ করবে সেটি হবে কোম্পানির ‘কাট অফ প্রাইস’। কাট অব প্রাইসের চেয়ে ১০ শতাংশ (নিকটতম পূর্ণসংখ্যা) কম দরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থাৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ এর সংশোধনীর উল্লেখযোগ্য বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে বিএসইসি।
সেগুলো হলো:  ১. ক) পুঁজিবাজার বহির্ভূত যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারিত রয়েছে তার সর্বোচ্চ অর্ধেক পরিমাণ অর্থ স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ করতে পারবে (অর্থাৎ ফান্ড সাইজের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত স্থায়ী আমানতের বিনিয়োগ করতে পারবে)।
খ) প্রতিটি ফান্ড পুঁজিবাজার ও পুঁজিবাজার বহির্ভূত বিনিয়োগ পত্র কোষ প্রতিবেদন মাসিক ভিত্তিতে নিজস্ব ওয়বেসাইটে প্রকাশ করবে।
২. লভ্যাংশ বিতরণ পদ্ধতি: ক) ফান্ড হতে কখন লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) হিসেবে পুর্নবিনিয়োগ (রি ইনভেস্টমেন্ট) দিতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
খ) প্রভিশনের ঘাটতি না থাকলে অর্ন্তবর্তীকালীন লভাংশ প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে।
৩. সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ এর বিধি ৬১(৪) বিলুপ্ত করে ইউনিটের বিক্রয়মুল্য ও পুনঃক্রয়মূল্যের মধ্যকার পার্থক্য ৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে।
৪. মেয়াদি ফান্ডের মেয়াদ সর্বমোট ১০ বছরের বেশি হবে না। মেয়াদ বর্ধন অথবা রূপান্তরের ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে এবং ইউনিট ভিত্তিক ভোট গণনা করা হবে।
৫. বিনিয়োগকারীর জন্য সংশ্লিষ্ট ফান্ডের পরিপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতার শর্ত সংযুক্ত করা হবে। ইউনিট ভিত্তিক নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) এখন থেকে সপ্তাহের পরিবর্তে দৈনিক ভিত্তিতে হবে।
৬. প্রতি দুই বছর অন্তর প্রত্যেক মিউচ্যুয়াল ফান্ড সাধারণ সভার আয়োজন করবে। সাধারণ সভায় ফান্ডের পারফরমেন্সসহ ফান্ড সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারফরমেন্স নিয়েও আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনে পক্ষগুলো পরিবর্তন করার ব্যাপারে ইউনিট হোল্ডারগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
৭. সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি ও ট্রাস্টির ফি কাঠামো পরিবর্তন করা হবে। সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থ হলে প্রাপ্য ফি কর্তনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একইভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপকের কোম্পানি নির্দিষ্ট হারের উপর নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে পারলে নির্দিষ্ট হারে পারফরমেন্স বোনাস ফি প্রাপ্য হবে।
৮. সকল বে-মেয়াদি ফান্ডকে ডিমেট আকারে পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়াও স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে বে-মেয়াদি ফান্ডের স্বতন্ত্র ট্রেডিং প্লাটফর্ম চালু করতে হবে।
৯. মেয়াদি ফান্ড বিশেষ অবস্থায় একটি নিদিষ্ট সীমার মধ্যে ইউনিট বাই-ব্যাক (বাই-ব্যাক) করতে পারবে।
১০. সঞ্চিতি নির্ধারণ ও সম্পদ মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট পন্থা প্রণয়ন করা হবে।
১১. একই প্রতিষ্ঠান মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি এবং কাস্টডিয়ান হতে পারবে না।
১২. সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগ কমিশনের পূর্ব অনুমোদনসাপেক্ষে হতে হবে।
১৩. নিবন্ধনের যোগ্যতা হিসেবে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির ১০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে।