নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সাংবাদিকদের অবদান রয়েছে এবং তাদের আরো বেশি অবদান রাখতে হবে।’
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিরীন শারমিন বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্র সম্পর্কে সাংবাদিকদেরও বিশেষ জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংবাদ পরিবেশন আরো সহজ হবে, গণতন্ত্র হবে আরো বেশি বিকশিত।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদ এই তিনটি রাষ্ট্রের স্তম্ভ। সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো বেশি কার্যকর করতে হলে এ তিনটি বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক কেমন, কোন বিভাগের কার্যপরিধি কতটুকু এ বিষয়গুলো জানার প্রয়োজনীয়তা আছে।’
সাব-এডিটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র প্রকাশ ও জনমত গঠনে সাব এডিটররা অনন্য ভূমিকা রাখে। তারা বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন। রিপোর্টাররা চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন। আর সেই সংবাদকে আরো মানসম্মত করে পাঠকের কাছে তুলে ধরার কাজ করেন সাব এডিটররা।’
সাব এডিটরদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের অর্জনের ব্যবস্থা করতে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংবাদকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। সংবাদ মাধ্যমে সাব-এডিটর, সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার কাউকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকার উপায় নেই, তাদের একটি পক্ষ নিতে হবে। যেমন- তাদের অবশ্যেই গণতন্ত্রের বিপক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, জঙ্গিগোষ্ঠী ও স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।’
আইন থাকা সত্ত্বেও অনেক সংবাদপত্র সাংবাদিকদের বেতন, ভাতা দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে বেতন বোর্ড আইন অনুযায়ী সকল সংবাদ মাধ্যমকে আইন কার্যকরে বাধ্য করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংগঠনের সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি মীর মোস্তাফিজ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ কে এম ওবায়দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ইমন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এছাড়া অতিথিদের ক্রেস্ট বিতরণ এবং সদস্যদের মধ্যে বার্ষিক স্যুভেনিয়র এবং গিফটও দেয়া হয়।

