স্পোর্টস ডেস্ক : বরখাস্ত হয়েও রেহাই পাচ্ছেন না বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। একের পর এক বিভিন্ন প্রশ্ন আর তদেন্তর মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। এবার নিজের নয়, পূর্বসূরির সময়ের এক ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের জালে আটকা পড়ছেন। আড়াই দশক আগের ১০০ মিলিয়ন ডলার লেনদেনে ব্লাটারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খোঁজতেই এই তদন্ত হচ্ছে।
সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রীড়া বিপণন সংস্থা আইএসএল ১৯৯০ সালে তৎকালীন সভাপতি জোয়াও হ্যাভালাঞ্জ ও নির্বাহী রিকার্ডো টেক্সেইরাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছিল। অনৈতিকভাবে এই অর্থ প্রদানের মাধ্যমে আইএসএল সহজেই টেলিভিশন ও মার্কেটিং স্বত্ব পেয়েছিল। এফবিআই ধারণা করছে ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই লেনদেন ব্লাটারের জ্ঞাতসারেই হয়েছে। কারণ তৎকালীন সভাপতির বিশ্বস্ত ছিলেন ব্লাটার। যদিও এ ধরনের ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছেন ব্লাটার।
বিবিসি জানিয়েছে, ব্লাটার অস্বীকার করলেও এফবিআই এ বিষয়ে তাকে সন্দেহ করছে। সংস্থাটি বলছে লেনদেন সংক্রান্ত সব বিষয় ব্লাটারের জানা আছে। তাই এফবিআই সুইস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে, তারা যেন এই তদন্তে সহায়তা করে। সুইজারল্যান্ড এর আগে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে যে তথ্য পেয়েছে তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা সংস্থা।
সুইজারল্যান্ডের একটি সংস্থা ২০১০ সালে আইএসএল এর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে হ্যাভালাঞ্জ ও টেইক্সেরিরার সম্পৃক্ততা পায়। এ বিষয়ে তিনি সম্পৃক্ত কি না, তা জানাতে ২০১৩ সালে ফিফার এথিক্স কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছে ব্লাটারকে। তখন ব্লাটার জানিয়েছিলেন, পূর্বসূরির এই ঘুষ লেনদেন বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল দীর্ঘ ২৪ বছর ফিফা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন হ্যাভালাঞ্জ। এরপর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সেপ ব্লাটারই সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি বছর সবশেষ ফিফা কংগ্রেসে পরবর্তী মেয়াদের জন্য নির্বাচিতও হয়েছিলেন। তবে ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন ব্লাটার। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ফিফার বিশেষ কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচনের কথা। এর আগেই দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে ফিফা এথিক্স কমিটি কর্তৃক সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হন ব্লাটার। যেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি।

