ঢাকাMonday , 7 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বে-টার্মিনাল নির্মাণে বন্দরকে ছাড়পত্র হস্তান্তর করলো সিডিএ

Link Copied!

tarminalচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : কাট্টলী সাগর উপকূলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত বে টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে ছাড়পত্র হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এর ফলে ছাড়পত্র নিয়ে টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা দুই সংস্থার বিরোধের অবসান হলো।
সোমবার দুপুর ১টায় ছাড়পত্রের কপিতে স্বাক্ষর করেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। দুপুর দেড়টায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে ছাড়পত্র হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সিডিএ ভবনে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া  অনুষ্ঠিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান। এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, প্রধান প্রকোশলী জসিম উদ্দিন, সচিব তাহেরা ফেরদৌস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বন্দরের এস্টেট অফিসার জিল্লুর রহমানসহ দুই কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
শাহিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘বে টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে ছাড়পত্র হস্তান্তর কপিতে দুপুর ১টায় সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম সাক্ষর করেন। দুপুর দেড়টায় বন্দর কর্তৃপক্ষের এস্টেট অফিসার জিল্লুর রহমানের হাতে ছাড়পত্র হস্তান্তর করা হয়।’
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গতকাল রোববার বলেছিলেন, ‘দেশের স্বার্থে চট্টগ্রামের স্বার্থেই কাট্টলী সাগরপড়ে আমাদের স্মার্ট সিটির পাশাপাশি ৯০৭ একর জায়গাজুড়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ বে টার্মিনাল নির্মাণে আর কোন বাধা নেই। এটি মন্ত্রণালয় থেকে আগেই সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। রোববার বন্দর কর্তৃপক্ষের এস্টেট অফিসারের সাথে বৈঠকের পর আমাদের ছাড়পত্রটি তাদের হস্তান্তেরের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অাগামীকাল সোমবার ছাড়পত্রের কপি হস্তান্তর করব।’
সিডিএ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘এরআগে সিডিএর স্মার্ট সিটির জন্য আমাদের নির্মিত আউটার রিংরোড ব্যবহার বন্দর কর্তৃপক্ষকে ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার যে শর্ত দেয়া হয়েছিল সেটির সাথে এখন নতুন করে এই রিংরোড পাস হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি ওভারপাস তৈরির শর্ত দেয়া হয়েছে। সেটিও তারা করতে রাজি হয়েছে।’
এরআগে গত ২১ নভেম্বর বে-টার্মিনাল নিমার্ণে কোনো বাধা নেই জানিয়েছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় সিডিএ’র কার্যক্রম।
সম্প্রতি সাথে আলাপকালে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর উপকূল সংলগ্ন কাট্টলী এলাকায় জেগে ওঠা ভূমিতে চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল নির্মাণ করতে চায়। এরজন্য ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসক থেকে ভূমি অধিগ্রহনের অনুমতির জন্য গেলে তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও ছাড়পত্রের জন্য সিডিএ নানা জটিলতা তৈরি করছে। সিডিএ বলছে, সেখানে তারা স্মার্ট সিটি করবে তাই সেখানে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা  যাবে না। এরপর আবার সিডিএ শর্ত দিলো রিং রোড ব্যবহার না করে বে টার্মিনালের জন্য নিজস্ব সড়ক তৈরি করতে হবে। নকশায় পরিবর্তন করে সেটি করা হলেও আবার তারা ছাড়পত্র না দিয়ে মতামতের জন্য সেটি মন্ত্রনালয়ের পাঠায়।
বন্দর চেয়ারম্যান আরো জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতার কোনো জাহাজ ভিড়তে না পারলেও প্রস্তাবিত বে টার্মিনালে ১৪ মিটার গভীর ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। বে টার্মিনালের দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। বিকল্প এ বন্দর হলে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করতে পারবে পাঁচ হাজার কনটেইনারবাহী জাহাজ। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে একদিনে সর্বোচ্চ হ্যান্ডেল করতে পারছে এক হাজার ৭০০ কনটেইনারবাহী জাহাজ। এছাড়া কর্ণফুলী চ্যানেলে সবসময় গড়ে ৪০০-৫০০ কার্গো জাহাজ, মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রগামী জাহাজ ছাড়াও শত শত সাম্পান ভিড় করে থাকে। পাশাপাশি দেশের সব তেল কোম্পানির স্থাপনা বন্দরের জেটি এলাকার মধ্যে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি।
চট্টগ্রাম বন্দরকে দূষণমুক্ত রাখতে বে-টার্মিনালে কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকার খালাস করার চিন্তা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাই আপাতত ডলফিন জেটি করে সেখানে এই দুটি পণ্য খালাস করতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এতে করে কর্ণফুলী ও বন্দরের পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা যাবে। পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আশা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।