স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচ হবে এক তরফা, এমনটাই আশংকা ছিল। তবে তাই হয়েছে। কিন্তু যাদের দুরুন্ত গতিতে আগানোর কথা ছিল, সেই বরিশাল বুলসই ভূপাতিত। আর হারতে হারতে ক্লান্ত যারা, সেই সিলেট সুপার স্টার্স শিবিরের মুখেই দিন শেষে উচ্ছল হাসি। সেই হাসিতে লুকিয়ে থাকল শেষ চারের উঠার স্বপ্নের হাতছানি।
অথচ ম্যাচটি ভিন্নরকমও হতে পারত। কিন্তু হয়নি। রোববার বিপিএলের প্রথম ম্যাচে বরিশালের হয়ে ব্যাট হাতে ব্যর্থ গেইল-লুইস থেকে শুরু করে লেজের শেষ ব্যাটসম্যানটিও। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। মাত্র ৫৮ রানে অলআউট। বিপিএলের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ে জিতবে বরিশাল, তা কেউ ভাবেনি। হয়েছেও তাই। মাত্র ৫৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে সিলেট সুপার স্টার্স জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ৫২ বল হাতে রেখে মাত্র ১ উইকেটে হারিয়ে। নয় উইকেটের দারুণ জয় পায় মুশফিকের পরিবর্তে আফ্রিদির নেতৃত্বে মাঠে নামা সিলেট সুপার স্টার্স।
জিতলেই শেষ চারে চলে যেত বরিশাল। কিন্তু এমন বাজে হারে তাদের প্রতীক্ষা বাড়ল। অন্যদিকে দাপুটে এমন জয়ে শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে রাখল মুশফিকুরেরা। সাত ম্যাচে সিলেটের এটি দ্বিতীয় জয়। পয়েন্ট চার। অন্যদিকে বরিশালের সপ্তম ম্যাচে এটি দ্বিতীয় হার।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় সিলেট সুপার স্টার্স। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই সিলেট ওপেনার মুনাবিরাকে সাজঘরে ফেরান বরিশালের পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ সামি। পাঁচ বল খেলে শূণ্য রানে সাজিদুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় রানও তখন শূণ্য।
তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জুনাইদ সিদ্দিকী ও নুরুল হাসান সাবধানে ব্যাট চালাতে থাকেন। লক্ষ্য ছোট হওয়াতেই এত ধীরস্থির ছিলেন দুজন। শেষ পর্যন্ত এই জুটিতেই জয় পায় সিলেট। তাইজুলের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সিলেটের জয় নিশ্চিত করেন নুরুল হাসান। ৩৭ বলে ৩৪ রানে জুনাইদ সিদ্দিকী ও ২৬ বলে ২৩ রানে নুরুল হাসান অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ১১.২ ওভারে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় এক উইকেটে ৬২ রান।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বরিশাল বুলস মাত্র ১৬ ওভারে অলআউট হয় ৫৮ রান করে। ক্রিস গেইল করেন আট বলে আট রান। দলীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করে পেসার মোহাম্মদ সামি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ রান করেন চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইস। বরিশালের আর কোন ব্যাটসম্যানই ছুঁতে পারেনি দুই অংকের রান।
সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং ফিগার ইংলিশ ক্রিকেটার রবি বোপারার। চার ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। মোহাম্মদ শহীদ, শহীদ আফ্রিদি, ও রুবেল হোসেন দুটি, সোহেল তানভির নেন একটি করে উইকেট।

