নিজস্ব প্রতিবেদক : যানজটে নাকাল ঢাকাবাসীর জন্য কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলছেন, মোহাম্মদপুর, আমিনবাজার ও গাবতলীর মেইন রোডের পাশের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হবে। এছাড়াও ৩২ কিলোমিটারে ২২টা লুপ বানাচ্ছি, ৬৯টি ইন্টারসেকশনকে মোটামুটি ক্লোজ করে দিয়েছি। এভাবে করে ১৫-২০ শতাংশ যানজট কমবে।
শনিবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাদে বাগান’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আনিসুল হক।
গেল সপ্তাহেই তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সিটি করপোরেশনের ট্রাক স্ট্যান্ডে অবৈধ স্থাপনা ও সড়ক থেকে ট্রাক সরাতে গিয়ে ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় আনিসুল হককে। ২৯ নভেম্বরের ওই অভিযানে গুলির গুজবে ব্যাপক গণ্ডগোল হয়। এরপর ভালো একটা ট্রাক টার্মিনাল বানিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেদিনের মতো অভিযান স্থগিত করা হয়।
মেয়র আনিসুল হক বলছেন, অবৈধ স্থাপনাগুলোর কাজ হয়ে গেলে আমরা পার্কিংয়ের বিষয়ে হাত দেব। আশা করি অতিদ্রুত ঢাকা শহরের যানজট নিরসন হবে।
বিলবোর্ড প্রসঙ্গে মেয়রের বক্তব্য, আমরা ছয় মাসে দুহাজারের অধিক বিলবোর্ড নামিয়েছি। তেজগাঁও, মহাখালীসহ ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা ফাঁকাসহ অনেক কাজ করেছি। আমি এসব কাজ একা করিনি। এর পেছনে ছিল রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দের শক্তি আর প্রাইম মিনিস্টারের ডিরেকশন।
ঢাকা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তার পাশের ওয়ালগুলোকে পেইন্টিং করে দেয়া হবে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের ফুটওভার ব্রিজগুলোকে ফুল দিয়ে সাজানো হবে, দেড় থেকে ২ মাসের মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে সার ও গাছ সরবরাহ করার জন্যে ইকো-বাস দেয়া হবে, বছরে একজনকে ভলো বাড়ি/অফিস সাজানোর জন্যে অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে। এছাড়াও ঢাকা ক্লিন করার জন্যে কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদ বলেন, ঢাকা শহরের কোনো রূপরেখা এখনো পর্যন্ত করা হয়নি।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাদাত উল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষে ছাদে বাগান শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ প্রশিক্ষণার্থীকে ছাদে বাগান করার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

