ঢাকাSaturday , 5 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্ণফুলীর গাফিলতিতে অনিশ্চিত শিশুদের বই উৎসব

Link Copied!

New Bookনিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঝামেলা চুকে যাওয়ার পর নতুন জটিলতায় পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। রাষ্ট্রায়ত্ত কর্ণফুলী পেপার মিলসের (কেপিএম) গাফিলতির কারণে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের বই সময়মতো শিশুদের হাতে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এনসিটিবির অভিযোগ, কর্ণফুলি সময় মতো কাগজ সরবরাহ করতে পারেনি। ফলে ৪০ লাখ বই ছাপানো এখন হুমকির মুখে। তবে তারপরও আগামী ২৫ ডিসেম্ববরের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর এনসিটিবি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের জন্য মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৩৫ কোটি বই ছাপানো হবে। এতে কাগজ লাগবে ১৯ হাজার মেট্রিক টন। এর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন। আর সরকারি বাধ্যবাধকতার কারণে বাকি তিন হাজার মেট্রিক টন নেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত কেপিএম থেকে। শুধু তা-ই নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৪ হাজার টাকায় প্রতি টন কাগজ কিনলেও কেপিএম থেকে কিনতে হচ্ছে ৯৮ হাজার টাকায়। তবে বর্তমানে বর্ধিত গ্যাসের দামের কারণে কেপিএমের প্রতি মেট্রিক টন কাগজের দাম লাখ টাকা ছাড়াবে বলে ধারণা করছে এনসিটিবি।
এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সচিব ড. রতন সিদ্দিকী বলেন, বেশি দাম দিয়ে কিনতে হলেও সময়মতো কাগজ সরবরাহ করতে পারছে না কেপিএম। তাদের চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাগজ সরবরাহের কথা ছিল।
তিনি বলেন, ‘কেপিএমকে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে কাগজ সাপ্লাই দিবে। সময় মতো কাগজ ডেলিভারি পাওয়ার জন্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তৎপরতা চালাচ্ছে।’
এদিকে গত বছরের তুলনায় এবার ৫ শতাংশ বেশি বই ছাপানো হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে গত বছর ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩ চার রঙা বই ছাপানো হয়েছিল। এবার মোট ৩৫ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধার হয়েছে ২৯২ কোটি টাকা। অবশ্য টেন্ডাররের মাধ্যমে ৯৪ কোটি টাকা কমিয়ে ১৯৮ কোটি টাকায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেয়া হয়েছে।
এ নিয়ে প্রথমে জোরালো আপত্তি তুলেছিল দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। পাঠ্যবইয়ের মান উন্নত করার জন্য কিছু শর্তও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর খরচ বাড়ানোর সুযোগ না থাকায়, তা কার্যকর হয়নি। তাই ছাপনো বইয়েরর মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
তবে মান কমার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন ড. রতন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘বইয়ের মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এনসিটিবির পাশাপাশি কন্টিনেন্টাল বিডি লিমিটেড নামের একটি মাননিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
কোম্পানিটি কাগজ ও ছাপার মান মনিটরিং করবে। সর্বশেষ বই বিতরণ করার পর ফিল্ড থেকে বই সংগ্রহ করে সঠিক মান সর্বক্ষেত্রে বজায় আছে কি না; তা যাচাই করবে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ। যোগ করেন ড. রতন সিদ্দিকী।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, অর্থায়ন জটিলতা এড়ানো গেলেও সময়মতো বই ছাপা নিয়ে জটিলতা কাটছে না। মাধ্যমিকের বই মোটামুটি এগুলেও প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের অবস্থা নাজুক। সবমিরিয়ে প্রায় এক কোটি বই এখনো ছাপার বাকি। এর মধ্যে ৪০ লাখ বই কর্ণফুলীর কাগজ দিয়ে ছাপানো হবে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘মাধ্যমিকের প্রায় ৯৩ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রাথমিকের ৫০ শতাংশের মতো কাজ শেষ। প্রাক-প্রাথমিকের বইসহ আগামী ২৫ ডিমেম্বরের মধ্যে সব বই সারা দেশে পৌঁছে দিবে এনসিটিবি।’
তবে প্রাক-প্রাথমিকের একটিও বইও এখনো পুরো ছাপানো হয়নি বলে জানা গেছে।
ড. রতন বলেন, ‘প্রকাশনাসমূহে এখন রাত-দিন কাজ চলছে। আমরা আশা করছি সঠিক সময়ে বই পৌঁছে যাবে।’
২০১৬ সালে মাধ্যমিকের জন্য প্রায় ২১ কেটি ৯২ লাখ, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১১ কোটি ৬৭ লাখ বই তৈরি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ কোটি বই তৈরি ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে (মাধ্যমিকের জন্য ৪০০টি, প্রাথমিকের জন্য ২২টি ও প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ২টি মুদ্রণ কোম্পনিকে বরাদ্দ দিয়েছে এনসিটিবি।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপানোর কাজ শেষ করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন তথা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকে।
কিন্তু বই ছাপানো শেষ না হওয়ায় এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটবে কি না জানতে চাইলে ড. রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘টেন্ডার হওয়ার ৯৮ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার বিধান। টেন্ডার হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। ২৮ ডিসেম্বর ৯৮ দিন পূর্ণ হবে। ৩০ ডিসেম্বর যেহেতু পৌর নির্বাচন সে ক্ষেত্রে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা বই পৌঁছানোর কাজ শেষ করতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছি।’
রীতি অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী বই উৎসবের ঘোষণা দেন। ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে বই উৎসব শুরু হয়। এবার ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচন ও ১ জানুয়ারি শুক্রবার হওয়ায় বই উৎসব দু’একদিন আগ-পিছ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।