নিজস্ব প্রতিবেদক : রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘৫ম বর্ষে পদার্পণ’ উপলক্ষে ও যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারো সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ কর্মসূচি সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্স। এ টিম দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে সেবার মান বৃদ্ধি কার্যক্রম তদারক করছেন। ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় কমলাপুর রেল স্টেশনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালা উদ্দীন বেলুন উড়িয়ে যাত্রী সেবা সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) খলিলুর রহমানসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থেকে শুরু করে রেলওয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সচিব ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টার ও প্লাটফরম পরিবদর্শন করেন। এবং যাত্রীদের সেবার রক্ষার জন্য সংশ্লিস্ট রেলকর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
যাত্রী সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে স্টেশন অ্যাপ্রোচ রোড পরিচ্ছন্ন রাখা, স্টেশনে ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা হালনাগাদ, প্লাটফরম ও ওভারব্রিজ পরিষ্কার, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জসহ স্টেশনের অভ্যন্তরীণ এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, চলন্ত ট্রেনে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, যাত্রী অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, রেলওয়ে কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রতারক-টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা, স্টেশনে ফাস্টএইড ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ভেন্ডিং শপ-ক্যাটারিং পরিবেশিত খাদ্যের মান নিশ্চিত করার কর্মসূচি নেয়া হয়।
রেল সচিব ফিরোজ সালা উদ্দীন এ বিষয়ে বলেন, ‘রেলওয়ে সবসময় যাত্রীদের নিরাপদ ও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে অঙ্গিকারাবদ্ধ। নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়ার পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে রেলকর্মীরা সচেষ্ট থাকে। এর পরও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
সেবা সপ্তাহে রেলের বিভিন্ন স্টেশনে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। এ সময় আমরা যাত্রীদের বিভিন্ন অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। যাত্রীরা সব ধরনের সেবা পাচ্ছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যাত্রীদের যেকোনো সুপারিশ আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন সচিব।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রেল অঙ্গনে ও রেল লাইনে নাশকতামূলক কাজ জাতীয় স্বার্থেও পরিপন্থি, স্টেশনে দাঁড়ানো অবস্থায় ট্রেনের টয়লেট ব্যবহার করবেন না, ট্রেনের ছাদে উঠে বা হাতল ধরে ঝুলে যাত্রী হয়ে না উঠার জন্য যাত্রীদেও সচেতনতামূলক প্রচারণা আমরা করে যাচ্ছি।’
মহাপরিচালক বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আমরা ৬০টি কোচ সংগ্রহ করছি। যা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধে রেলওয়ের কোচ বহরে যুক্ত হবে। রেলওয়ের কোচ সংকট দূর করতে আমরা এই কোচ সংগ্রহ করছি।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই কোচগুলো রেলওয়ের কোচ বহরে যুক্ত হলে রেলওয়ের যাত্রী বহন বেড়ে যাবে।’

