ঢাকাFriday , 4 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুম্বলেকে পেতে নেতৃত্ব ছাড়তে রাজি ছিলেন সৌরভ!

Link Copied!

gangulyস্পোর্টস ডেস্ক : অনিল কুম্বলেকে দলে পেতে নেতৃত্ব ছাড়তেও রাজি হয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। ঘটনাটা ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগের। পড়তি ফর্মের অজুহাতে নির্বাচকরা ছেঁটে ফেলতে চেয়েছিলেন কিংবদন্তি লেগ স্পিনার কুম্বলেকে। কিন্তু এটা কোনোভাবেই মানতে পারেননি  বৃহস্পতিবার ‘ট্রান্সফর্মিং সেট ব্যাক ইনটু কামব্যাক’ অনুষ্ঠানে এসে সাবেক ভারত অধিনায়ক কুম্বলেকে দলে পেতে কী করেছিলেন তা জানিয়ে দিলেন কর্পোরেট হাউজের কর্মকর্তাদের।
অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে নির্বাচকদের সঙ্গে কুম্বলে ইস্যুতে লেগে যায় সৌরভের। নির্বাচকরা কোনোভাবেই চাননি কুম্বলে দলের সঙ্গে থাকুক। কিন্তু সৌরভ নাছোড়বান্দা, কুম্বলেকে ছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠবেন না। রাত ২টা পর্যন্ত নির্বাচকদের সঙ্গে সৌরভের রূদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। এসময় ভারত অধিনায়ককে পরিষ্কার করে বলা হয়, কুম্বলে খারাপ করলে এর দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
শুধু তাই নয়, তারা তখন নতুন অধিনায়ককে নিয়েও ভাববেন। তাতেও রাজি হন সৌরভ। ওই মৌসুমে কুম্বলে ৭৫ উইকেট নিয়ে  অধিনায়কের বিশ্বাসের প্রতিদান দেন।
এদিন সৌরভকে নস্টালজিক করে তোলে ১৯৯১ সালের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। ওই সফরে এক সিনিয়র তারকা ক্রিকেটারের কথা এখনও ভুলতে পারেননি কলকাতার মহারাজা। সৌরভের দাবি ওই ঘটনা তাকে যথেষ্ট শিক্ষা দিয়ে গেছে।
প্রিন্স অব কলকাতার ভাষায়, ‘ ৯১ এর অস্ট্রেলিয়া সফর আমার জন্য ছিল বড় শিক্ষার। এখনও মনে পড়ে রাতে হোটেলে পৌঁছানোর পর ভ্রমণক্লান্তিতে ঘরের এক কোণে একা বসে ছিলাম। সতীর্থ এক তারকা ক্রিকেটারের ডিনারের প্রস্তাব ফেরাতে পারিনি। উনি রেস্তোরাঁয় খেতে খেতে আমাকে বলেছিলেন, এই সিরিজে না এলেই পারতে। তার কথা শুনে গলায় খাবার আটকে যাচ্ছিল। তারপর দল থেকে বাদ পড়ি। বাকিটা সবার জানা।’
এরপর সৌরভ প্রতিজ্ঞা করেন তিনি কখনও কোনো তরুণ ক্রিকেটারের সঙ্গে ওরকম আচরণ করবেন না। তিনি বলেন,‘ আজও ওই ঘটনা আমার কাছে বড় শিক্ষা। আমি মনে করি, ভালো নেতা হতে গেলে দরকার প্রতিভা চেনার ক্ষমতা। তারপর তাকে বিশ্বাস দাও।  এটা শুধু ক্রিকেটে নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই।’
অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ  জীবনের কঠিনতম  সময় পার করেছেন ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। ম্যাচের আগের দিন নাগপুরের হোটেলে ঘুমাতে পারেননি। যে গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে সাপে নেউলে  সম্পর্ক ছিল সেই তার কাছ থেকেও নাকি শিখেছেন সৌরভ,‘ গ্রেগের কিন্তু ভালো দিকও ছিল। উনি শিখিয়েছিলেন টেস্টের প্রস্তুতি তিন দিন আগে থেকে হবে  না।  হবে ছয় মাস আগে থেকে।  মনে মনে ছয় মাস আগে থেকে টেস্ট খেলতে  হবে।’
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) অধিনায়ক থেকে সৌরভকে কিভাবে সরানো হয়েছিল সেটা সবার জানা। সেই থেকে অনেকের ধারণা বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক ভালো নয়। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে এদিন শাহরুখের জীবনের একটা গল্প বলে ফেললেন তিনি।  যেটা তাকে বলেছিলেন শাহরুখই। যে গল্প কিং খানের শুরুর দিকের।
শুনুন সৌরভের মুখ থেকেই, ‘আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম জীবনে এত কঠিন লড়াই করলেন কীভাবে? ও উত্তরে বলেছে, ‘সৌরভ, আমি যখন প্রথম মুম্বাই আসি প্রথম দুটি  কথা নিজেকে বলতাম। আজ যে বাড়িতে (মান্নত) থাকি তার উল্টো দিকে বসে প্রতিদিন চিন্তা করতাম এই  বাড়িটা আমাকে  কিনতে হবে। আবার প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে এও বলতাম, আমি কাপুর পরিবার থেকে আসিনি। সালমানের মতো হওয়া সম্ভব নয়। আমিরের মতো বংশাক্রমানুভাবেও আমি আসিনি। একটা সময় এও মনে হয়েছে, হৃতিকের মতো নাচতেও পারবো না। তবে আমার ভালো দিকগুলোর দিকে ইনভেস্ট করতে পারি। আ অ্যাম দ্য বেস্ট।’