ঢাকাWednesday , 2 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৯ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৪ মাসে

Link Copied!

tkঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৪ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি আসে ৯ হাজার ৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১ হাজার ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মূলত এ তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রে বিক্রি আসে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১৮ কোটি টাকা বেশি। আগস্ট মাসে সঞ্চয়পত্রে বিক্রি আসে ২ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৮০ কোটি টাকা বেশি। একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগ আসে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪২৭ কোটি টাকা কম। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আসে ২ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ৩ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৬ কোটি টাকা বেশি।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ৬ হাজার ২২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫২৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি না থাকায় ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় জমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়েই আমানতে সুদ হার কমিয়েছে। অন্যদিকে, এখন সঞ্চয়পত্রে সুদ হার ব্যাংকের চেয়ে বেশি। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন।
এদিকে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।
জানা গেছে, আশার তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হওয়ায় গত অর্থবছর জুড়েই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাহিদা ছিল কম। গত অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকার নিট ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা নিতে হয়নি। অর্থবছর শেষে ঋণ না বেড়ে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা কমে সরকারের পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ নেমে আসে এক লাখ ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকখাতে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এতে মোট পুঞ্জিভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগে নেয়া তিন হাজার ২৩৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণ কমে আট হাজার ৬৮১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১১ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা নেয়ায় ঋণ বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ২৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ১১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। তার আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৭৩ কোটি টাকা। প্রতিদিন যে টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় তা থেকে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকেই নিট বিক্রি বলে হিসাব করা হয়।