নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘দুর্নীতি দমন বা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো সুশাসন। দুর্নীতিহীন প্রশাসন না হলে সুশাসন সম্ভব নয়।’
রবিবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র সমস্যা। সমাজের ৫ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাকি ৯৫ শতাংশ মানুষ সচেতন হলেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে বড় কথা হলো সরকারের সদিচ্ছা। সরকার যদি একান্তভাবে দুর্নীতি দমন করতে চায় তবেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।’
দুদকের গত ১০ বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে তাতে কমিশনের প্রতি আস্থা রাখা যায় বলেও দাবি করেন এই প্রবীণ শিক্ষক।
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাজে সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতাও রয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে এক হাজার ৭৩ জন কাজ করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৩০০ জন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজে জড়িত। এতো স্বল্প সংখ্যক লোক দিয়ে এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’
আর বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় দুর্নীতি লাঘবের জন্য। দাতাগোষ্ঠীদের চাপে ওই সময়ে (২০০৪ সালে) কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু কমিশন গঠন করা হলেও তাকে নির্জিব করে রাখা হয়। দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ডই সে সময় পরিলক্ষিত হয়নি।’
দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা যে নেই তা বলা যাবে না। তবে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছি। এ বছরই আমরা ভারতের সিভিআইসহ ১৪২টি দেশের অংশগ্রহণে একটি সভা করেছি। সেখানে পাচার করা অর্থ কীভাবে উদ্ধার করা যায় ও অর্থপাচার কীভাবে বন্ধ করা যায় তা আলোচনা হয়েছে।’
অর্থপাচার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান এই কমিশনার।
প্রসঙ্গত, ২১ নভেম্বর দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওই দিন সরকারি ছুটি থাকায় রবিবার এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

