জাতির ঐতিহাসিক দায়মুক্তি ॥ সারাদেশে আনন্দ উল্লাস
- একইসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুললো ২ যুদ্ধাপরাধ
- হাউমাউ করে কেঁদেছেন সাকা-মুজাহিদ

যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ শনিবার দিবাগত রাতে কার্যকর করা হয়েছে। কারাগার থেকে এম্বুলেন্সে মরদেহ বের করে পুলিশি পাহারায় নেয়া হচ্ছে গ্রামের বাড়ি -পাঞ্জেরী
বিশেষ প্রতিবেদক : দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রোববার প্রথম প্রহরে অর্থাৎ গতকাল শনিবার দিবাগত রাত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে একসাথে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান জানিয়েছেন, রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
আর এরই মধ্যদিয়ে ৪৪ বছর পর ঐতিহাসিক দায়মুক্তি ঘটল জাতির। ফাঁসি কার্যকরের সংবাদে সারা দেশ আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে।
ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন-আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, এডিশনাল আইজি প্রিজন (ঢাকা বিভাগ) গোলাম হায়দার, জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, জেলার, ডেপুটি জেলার, সিভিল সার্জন, কারা চিকিৎসক, ডিএমপি কমিশনারের প্রতিনিধি, লালবাগ জোনের ডিসি ও র্যাবের প্রতিনিধি।
এর আগে গতকাল শনিবার রাতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সৈয়দ মারুফ হাসান কারাফটকে সাংবাদিকদের জানান, উভয়ের পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী দু’জনেরই মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে। সেই অনুযায়ী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মরদেহ চট্টগ্রামে রাউজানে আর আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মরদেহ ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে রাত সাড়ে ১২টায় চারটি এম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে।
এর আগে দুই পরিবারকেই গতকাল শনিবার রাতে শেষ বারের মতো দেখা করার সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে টেলিফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মোহাম্মদ মাবরুব।
এদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর রাত ১০টা ২৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে ১০টা ২০ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন। তার মিনিট পাঁচেক আগে প্রবেশ করেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারুল আলম। এর আগেই প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। গতকাল শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে ফাঁসির রায় কার্যকরে অংশ নেয় ৭ জন জল্লাদ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কারাসূত্র। জল্লাদরা হলেন, শাহজাহান, রাজু, ইকবাল, মাসুদ, আবুল, মোক্তার ও হযরত। এসব জল্লাদ বিভিন্ন সময় ফাঁসি আসামিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করেন। এদের মধ্যে শাহজাহান ও রাজু যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্য করে অংশ নিয়েছিলেন।
কাশিমপুর কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে এসব জল্লাদদের এনে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগারের দুটি ফাঁসিমঞ্চের মধ্যে পুরানো মঞ্চটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুই হেভিওয়েট যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের জন্য।
এদিকে দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল থেকেই নাজিমউদ্দিন রোডে কারাগারের সামনে র্যাব-পুলিশের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকেলে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিকেল ৪টার আগে শুধু র্যাব সদস্যদের সশস্ত্র পাহারায় দেখা গেলেও সন্ধ্যার আগে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে।
কারা ফটকের আশপাশে গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কাউকে যাওয়া-আসা করতে দেয়া হয়নি। সাংবাদিকদেরও পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।
ডিএমপির লালবাগ জোনের পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, ফাঁসির দুই আসামি কারাগারে। তাই নিরাপত্তার কারণে আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি বলেন, এখানে সাংবাদিকদের মধ্যে অন্য কেউ ঢুকে যেন কোনো নাশকতা না করতে পারে এ জন্য সকলকে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালে এই দুই ব্যক্তি পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর দোসর হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরুদ্ধে নির্মম নিষ্ঠুর তৎপরতায় লিপ্ত থেকে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছিল তাদের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক বিচারের নজির স্থাপিত হল। জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ’৭১ সালে আলবদর বাহিনীর প্রধান বা কমান্ডার হিসেবে এদেশের বুদ্ধিজীবীদের ডিসেম্বরের তীব্র শীতের রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে নির্মম রোমহর্ষক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমদ, শহীদুল্লাহ কায়সার, আনম গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, গায়ক আলতাফ মাহমুদ প্রমুখ অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তিলে তিলে হত্যা করা হয়। কারো চোখ উপড়ে ফেলা হয়, কারো হাত কেটে ফেলা হয়- এভাবে নির্যাতন করে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। এই দ- কার্যকরের মধ্যদিয়ে কলঙ্ক মুক্ত হলো জাতি।
তাদের সামনে শুধু সুযোগ ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার। গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদ দুজনই রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন।
তবে দুজনের সন্তানরাই মন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারা বলছেন, কারাবন্দি বাবার সাথে দেখা করেই বিষয়টি নিশ্চিত হবেন তারা। এর আগে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মো. কামারুজ্জামানের দ- এই কারাগারেই কার্যকর হয়েছিল, তারা প্রাণভিক্ষা চাননি।
এদিকে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা-নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনি আপিল করলে চলতি বছরের ১৬ জুন চূড়ান্ত রায়েও ঐ সাজা বহাল থাকে।
একাত্তরে চট্টগ্রামের ত্রাস সালাউদ্দিন কাদেরের রায় হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় এ বছর ২৯ জুলাই আপিলের রায়েও বহাল থাকে।
তাদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় একই দিনে, ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে এবং কারা কর্তৃপক্ষ ১ অক্টোবর তা দুই ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনায়।
এরপর দুই যুদ্ধাপরাধী ঐ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত বুধবার আদালত তা খারিজ করে দেয়। ঐ দিন রাতেই দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ডের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এরপর থেকে শুরু প্রাণভিক্ষার বিষয়টি। তাও গতকাল নিষ্পত্তি হয়েছে।
একইসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুললো ২ যুদ্ধাপরাধী : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
এরা দু’জনেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এবং সে আবেদন নাকচও করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রাণভিক্ষা চাননি- সর্বশেষ সাক্ষাতে পরিবারের কাছে এটাই বলেছেন তারা।
ফাঁসি কার্যকরের পর নিয়মিত আনুষ্ঠানিকতা সেরে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে। পুলিশ ও র্যাবের বেশ কয়েকটি গাড়ি নিরাপত্তার জন্য মরদেহবাহী এম্বুলেন্স দুটির সঙ্গে পাঠানো হবে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে যথাক্রমে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের রায় কার্যকর করা হলো।
এর আগে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। তার আগে কারাগারে যান আইজি (প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জল্লাদ
সাত জন জল্লাদ তাদের ফাঁসি কার্যকর করেছেন। এরা হলেন- ইকবাল, মাসুদ, আবুল, মোক্তার, রাজু, শাহজাহান ও হযরত। এসব জল্লাদ বিভিন্ন সময় ফাঁসি আসামিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করেন। এদের মধ্যে শাহজাহান ও রাজু যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে অংশ নিয়েছিলেন।
এম্বুলেন্স : রাত ১২টা ৩১ মিনিটে লাশ বহন করে এমন চারটি ফ্রিজিং এম্বুলেন্স কারাগারের সামনে এনে রাখা হয়। ১২টা ৩৮ মিনিটে এম্বুলেন্সগুলো কারাগারে প্রবেশ করে।
স্বজনদের সাক্ষাৎ : সর্বশেষ শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে শেষ দেখা করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন তার স্বজনেরা। সোয়া এক ঘণ্টা পর তারা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ ১৮ জন স্বজন তার সঙ্গে দেখা করেন।
রাত ১০টা ২৫ মিনিটে আলী আহসান মুজাহিদের সঙ্গে শেষ দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন স্বজনরা। তারা ঘণ্টা পর বের হন। স্ত্রী ও ছেলেসহ ৮ জন স্বজন তার সঙ্গে দেখা করেন।
হাউমাউ করে কেঁদেছেন সাকা-মুজাহিদ : ফাঁসি কার্যকর করার আগে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হাউমাউ করে কাঁদছিলেন সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এর মধ্যে মুজাহিদ তার দুই মেয়েকে ধরেই সবচেয়ে বেশি কেঁদেছেন বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে আসার পর দু’জনকে তাদের শেষ ইচ্ছা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু এর জবাবে তারা কিছুই জানায়নি। পরে তাদেরকে খাবার দেয়া হয়। সেই খাবারে মধ্যে ছিল ভাত, সবজি, মুরগির মাংস এবং ডাল। ঐ মুহূর্তে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী খাবার খেলেও মুজাহিদ তা ফিরিয়ে দেন।
মুজাহিদের পরিবার বের হওয়ার আগেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তওবা পড়ানো হয়। আর পরিবারের সদস্যরা বের হওয়ার পর তওবা পড়ানো হয় মুজাহিদকে। তাদেরকে তওবা পড়ান লালবাগ তারা মসজিদের ইমাম মনির হোসেন।
পরে আলী আহসান মুজাহিদ এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাত পেছনের দিকে বেঁধে ফেলা হয় এবং জমটুপি দিয়ে ঢেকে ফেলা হয় তাদের মুখম-ল। সামনে একজন এবং পেছনে দুইজন জল্লাদ দিয়ে তাদেরকে পৃথকভাবে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যায়।
তবে সাকা চৌধুরীকে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে আসার জন্য তিন জল্লাদ তার কাছে গেলে জোর-জবরদস্তি করেন তিনি। পরে জল্লাদরা জোর করে যখন তার মাথায় জমটুপি পরিয়ে দেয় তখন কিছুটা শান্ত হয়ে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকেন। যখন ফাঁসির মঞ্চে তোলা হচ্ছিল তখন আরেকবার পা শক্ত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাকা। জল্লাদরা শেষবারের মতো ধরে জোর করে ফাঁসির মঞ্চে তোলে তাকে।
১২টা ৩৬ মিনিটে ফাঁসির মঞ্চে মূল কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে ১২টা ৪২ মিনিটে তাদেরকে মঞ্চে তোলা হয়। এ সময় ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) কর্নেল ফজলুল কবির, সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা, ডিবি (ডিসি-উত্তর) নাজমুল আলম, ডিআইজি (প্রিজন্স) গোলাম হায়দার, জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, জেলার নেসার আলী, ঢাকা জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন, দুই ম্যাজিস্ট্রেট, ১২ জন সশস্ত্র কারা পুলিশ, ৮ জন সিভিল পুলিশ এবং ৬ জন ডেপুটি জেলার (এর মধ্যে একজন ছিলেন নারী)।
ফাঁসির মঞ্চটি কারাগারের পুরোনো মঞ্চ নামেই পরিচিত। এই মঞ্চেই জেএমবির সাবেক প্রধান সায়েক আব্দুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

