ঢাকাSaturday , 21 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বে-টার্মিনাল নির্মাণে বাধা কাটছে

Link Copied!

tarminalচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরের উপকূলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল নির্মাণে সিডিএ ও বন্দরের সাথে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল অবশেষে সেটির অবসান হতে যাচ্ছে। সিডিএ’র স্মার্ট সিটির পাশাপাশি ৯০৭ একর জায়গাজুড়ে বে টার্মিনাল নির্মাণে আর কোন বাধা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় সিডিএ’র কার্যক্রম।
এরআগে বঙ্গোপসাগেরর কাট্টলী উপকূলের ৯০৭ একর জায়গাজুড়ে বে টার্মিনাল নির্মাণ করতে ছ্ড়াপত্রের জন্য ২০১৪ সালে সিডিএর কাছে আবেদন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতোদিন বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নকশা পরিবর্তন করিয়ে শেষ পর্যন্ত অনুমোদন না দিয়ে গত মাসে সেটি অনুমোদনের জন্য মতামত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে দেয় সিডিএ। যখন বে টার্মিনাল হবে কি হবে না এই নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর সংশয় সৃষ্টি হয়, তখনই চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বে টার্মিনাল নির্মাণে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন সিডিএর অভিভাবক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশশাররফ হোসেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম ক্লাবে ‘সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার জনপদ হোক চট্টগ্রাম’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘সিডিএ কাট্টলী সাগার পাড় সংলগ্ন এলাকায় নান্দনিক শহর গড়ে তোলতে চায়। আর সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল করতে চায়। আমরা বলেছি করতে পারেন তবে, বন্দরের ভারি যানবাহন জন্য আলাদ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। তারা নকশা পরিবর্তন করে সেটি করতে রাজি হয়েছে। বিষটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সুতারাং বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণে এখন আর বাধা নেই। আমরা অনুমতি দেব।’
সম্প্রতি আলাপকালে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর উপকূল সংলগ্ন কাট্টলী এলাকায় জেগে ওঠা ভূমিতে চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল নির্মাণ করতে চায়। এরজন্য ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসক থেকে ভূমি অধিগ্রহনের অনুমতির জন্য গেলে তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও ছাড়পত্রের জন্য সিডিএ নানা জটিলতা তৈরি করছে। সিডিএ বলছে, সেখানে তারা স্মার্ট সিটি করবে তাই সেখানে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা  যাবে না। এরপর আবার সিডিএ শর্ত দিলো রিং রোড ব্যবহার না করে বে টার্মিনালের জন্য নিজস্ব সড়ক তৈরি করতে হবে। নকশায় পরিবর্তন করে সেটি করা হলেও আবার তারা ছাড়পত্র না দিয়ে মতামতের জন্য সেটি মন্ত্রনালয়ের পাঠায়।
বন্দর চেয়ারম্যান আরো জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতার কোনো জাহাজ ভিড়তে না পারলেও প্রস্তাবিত বে টার্মিনালে ১৪ মিটার গভীর ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। বে টার্মিনালের দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। বিকল্প এ বন্দর হলে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করতে পারবে পাঁচ হাজার কনটেইনারবাহী জাহাজ। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে একদিনে সর্বোচ্চ হ্যান্ডেল করতে পারছে এক হাজার ৭০০ কনটেইনারবাহী জাহাজ। এছাড়া কর্ণফুলী চ্যানেলে সবসময় গড়ে ৪০০-৫০০ কার্গো জাহাজ, মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রগামী জাহাজ ছাড়াও শত শত সাম্পান ভিড় করে থাকে। পাশাপাশি দেশের সব তেল কোম্পানির স্থাপনা বন্দরের জেটি এলাকার মধ্যে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি।
চট্টগ্রাম বন্দরকে দূষণমুক্ত রাখতে বে-টার্মিনালে কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকার খালাস করার চিন্তা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাই আপাতত ডলফিন জেটি করে সেখানে এই দুটি পণ্য খালাস করতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এতে করে কর্ণফুলী ও বন্দরের পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা যাবে। আপাতত ডলফিন জেটি চালু করে এটির কার্যক্রম চালু করে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আশা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।