নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে প্রস্তাবিত দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অবকাঠামো নির্মাণসহ কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবাব পরিকল্পনা উপ-মন্ত্রী এবং পার্টনার্স ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (পিপিডি) চেয়াম্যান ওয়াং লিপেন।
শুক্রবার বিকেলে সোনারগাওঁ হোটেলে বাংলাদেশ-চীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, চীন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তারা পদ্মা সেতুসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সহযোগিতা করছে। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে প্রস্তাবিত দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আমরা চীনের সহযোগিতা চেয়েছি। চীনের পক্ষ থেকে ওয়াং পিপেন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, পিপিডির ভবন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। চীন সেখানে ১২ কোটি ডলার সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশ ৫০ হাজার ডলার সে খাতে বিনিয়োগ করবে।
তিনি আরো বলেন, শুধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে নয়, ঢাকাতে আন্তর্জাতিক মানের বার্ন ইউনিট স্থাপনে বাংলাদেশ সরকারের যে পরিকল্পনা রয়েছে সে ব্যাপারেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রচুর শিক্ষার্থী চীনে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষার জন্য যায়। আরো বেশি পরিমাণে শিক্ষার্থী যাতে পড়তে যেতে পারে সেজন্য চীন সরকারের স্কলারশিপ প্রোগ্রাম বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সবগুলো ব্যাপারে চীনা উপ-মন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ওষুধ শিল্পের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি চীন প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের একশ তিনটি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। চীনেও যাতে অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা পাওয়া যায় সেটাও প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওষুধ উৎপাদনে দুইদেশের প্রযুক্তির বিনিময় ও সহযোগিতার ব্যাপারটি বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই দেশের সরকার আন্তরিক বলে জানান চীনা উপ-মন্ত্রী।
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারগুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী নাসিম।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামসহ দুই দেশের ১৪ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

