ঢাকাThursday , 19 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশেষ সুবিধার পরও বেড়েছে খেলাপি ঋণ

Link Copied!

takaঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : সহজ শর্তে ঋণ পুনঃর্গঠনসহ নানান সুবিধা দেয়ার পরও ব্যাংকিংখাতের খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না বরং তিন মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিংখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি টাকায়। যা বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ তিনমাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১৯২ কোটি টাকা বা দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে।
তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হওয়া ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হওয়া ৫২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৪ সালের প্রথম দিকের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিশেষ নীতিমালার আওতায় ৫০০ কোটি টাকা ও এর বেশি অংকের খেলাপিদের ঋণ পুনর্গঠনে ছাড় দেয়া হয়। এ সুবিধা পেতে ১৫টি শিল্পগ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। এর মধ্যে ১১টি গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন বিবেচনায় নেয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যদিও এগুলোর মধ্যে কিছু নিয়মিত ঋণ ছিল। তবে তা ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে না। এর আগে একই কারণে ব্যাংকিংখাতে ১২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। এতসব সুবিধার পরও এ খাতে খেলাপি ঋণ কমছে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ মিশন প্রধান রডরিগো কুবেরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের হার খুব বেশি। এ ঋণের কারণে গোটা ব্যাংকখাতই চাপে রয়েছে।’ এছাড়া ব্যাংকখাত, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ব্যবস্থা দুর্বল বলেও মন্তব্য করে আইএমএফ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকখাতের মোট খেলাপি ঋণের ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ রাষ্ট্র মালিকানাধীন পাঁচটি ব্যাংকের বিতরণ করা। আর ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হয়েছে ১০টি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণ থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিংখাতে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিংখাতে খেলাপিঋণ ছিল ৫২ হাজার ৫১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যা ওই সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল। জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি ছিল ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এর আগের মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ডবল ডিজিটের ওপরে ছিল। গত মার্চ প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিংখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।